কমনওয়েলথ গেমসের পর এশিয়ান গেমস। গত কয়েক মাসে দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুরন্ত সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় বক্সিং। তবে বক্সিং ফেডারেশনের অন্দরেই এখন বিতর্কের ঝড়! একদিকে সভাপতি অজয় সিং ঘোষণা করেছেন সচিব প্রমোদ কুমারকে সাসপেন্ড করার কথা। পালটা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থার কথা জানিয়ে পালটা তাঁর ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সচিব।
সম্প্রতি দুই গেমসে ঝড় তুলেছেন ভারতীয় বক্সাররা। গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসে ৭টা সোনা এবং ৩টি রুপো এনেছেন তাঁরা। আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস থেকে এসেছে ৩টি করে সোনা ও ব্রোঞ্জ। যার ফলে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ঘিরে সোনালি স্বপ্ন দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল, সাক্ষী চৌধুরীদের নিয়ে। যদিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে ফেডারেশনের সভাপতি এবং সচিবের ‘বক্সিং ম্যাচ’। সম্প্রতি সচিবকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেছেন সভাপতি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন আর্থিক বিষয়-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সচিব। সেসব ইস্যুতে সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তের কথাও জানান সভাপতি। এরপরই পাল্টা দেন সচিব।
তাঁর মতে, গত ৮ অক্টোবর সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর ফেডারেশনের বিশেষ সাধারণ সভায় সেই সংক্রান্ত আলোচনা হওয়ার কথা। অনাস্থা প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হওয়ার আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সভাপতির নেই। উলটে সাতটি বিষয় উল্লেখ করে, আপাতত সভাপতির যাবতীয় ক্ষমতা প্রত্যাহার করার কথা ফেডারেশনের সদস্য রাজ্যগুলিকে জানিয়েছেন সচিব। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও চিঠি দিয়েছিন তিনি। আবার ফেডারেশন সভাপতির ‘বার্তা’ ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে বঙ্গ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনেও। সম্প্রতি ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির জেরে অ্যাসোসিয়েশনের সচিব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে তাঁকে সেই পদে ফেরানোর জন্য বুধবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যে চিঠি লিখেছিলেন কমিটির সদস্যদের, সেখানে আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে উল্লেখ করা ছিল ফেডারেশন সভাপতি কথা অনুযায়ী স্বপনকে ফের সচিব করার কথা। যদিও কমিটির একাংশ সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবার জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বক্সিং ছেড়ে টেবল টেনিসে কর্তা হয়ে থাকার কথা ঘোষণা করেছিলেন স্বপন। কিন্তু অনাস্থার জেরে সেই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। তাই ফের বক্সিংয়ে ফিরতে চাইছেন তিনি। আর সেক্ষেত্রে স্বপন জার কথা হাতিয়ার করছেন, সেই ফেডারেশন সভাপতি নিজেই অনাস্থার মুখে। যদিও স্বপনের দাবি, গণ্ডগোল শুরু হওয়ার আগেই কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
