প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের স্নাতক প্রোগ্রামের স্প্রিং-২০২৬ সেশনের ৯ম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দামপাড়াস্থ ভবনে বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব কুহেলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। এ সময় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ ইউনুস, সহকারী অধ্যাপক জনাব সঞ্জয় কুমার দাশ ও জনাব আফরোজা রহমান এবং প্রভাষক এস. এম. তৌসিফ, সৈয়দা আতকিয়া ফাইজা ও অর্পিতা দেবী।
- Advertisement -
মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ফ্যাশন ডিজাইনে সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সংস্কৃতির সমন্বয় অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে দক্ষ ডিজাইনার হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পেছনে অভিভাবকদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হয়। তাই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, দাবা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বিকশিত করতে হবে। এ সময় তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে আরও উন্নত, আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এক বছর সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাশে অভিভাবকের মতো থাকার আশ্বাস দেন।
বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি কুহেলী চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফ্যাশন ডিজাইন শুধু সৃজনশীলতার বিষয় নয়, এটি একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ চর্চা। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রবণতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। অধ্যবসায়, সময়ানুবর্তিতা ও আত্মবিশ্বাস তাঁদের একজন সফল ডিজাইনার হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পেছনে পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হয়। তাই শিক্ষার্থীদের সেই অর্থের যথাযথ মূল্যায়ন করে মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। পড়াশোনার কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।শুধু ইউটিউব বা অনলাইননির্ভর না হয়ে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফ্যাশন ডিজাইনের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি ফিল্ড ট্রিপ ও অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন দক্ষ ডিজাইনার হিসেবে গড়ে উঠতে চারপাশের পরিবেশ, মানুষের জীবনধারা ও বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পকলা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ফ্যাশন ডিজাইনে ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরিশেষে নবীন শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ ইউনুস শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ডিজাইনার হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যের পর সহকারী অধ্যাপক জনাব সঞ্জয় কুমার দাশ ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের পরিচিতি তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক সৈয়দা নাজনীন আহসান।
অনুষ্ঠানে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব আফরোজা রহমান এবং প্রভাষক এস. এম. তৌসিফ, সৈয়দা আতকিয়া ফাইজা ও অর্পিতা দেবীসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
