Published on
:
2 min read
এই সময়: বিক্ষোভ সামাল দিতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দিল পাকিস্তান সরকার। রবিবার পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জ়ারদারির অফিস থেকে সংবিধানের ২৩২ (১) এবং ২৩৪ (১) ধারা কার্যকর করে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ইমার্জেন্সি ঘোষণার পাশাপাশি সেখানে গভর্নর্স রুল জারি করা হয়। এর ফলে জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নির্বাচিত সরকার এই প্রদেশের ক্ষমতা আপাতত হারাল।
মুখ্যমন্ত্রী-সহ বাকি সব মন্ত্রী এবং আমলাদের দ্রুত অফিস খালি করে দিতে বলা হয়েছে। ইমরানের মুক্তি ও তাঁর যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে তাঁর দলের হাজার হাজার সমর্থক ইসলামাবাদের দিকে মিছিল করে এগোচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে দু'বার আলোচনায় বসেও সুরাহা বের করতে পারেনি শেহবাজ় শরিফের সরকার। বরং পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়েছে। এ দিন জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ইমার্জেন্সি জারির যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, 'যে সব সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চলছে, তা বিপজ্জনক।'
এতে বিক্ষোভের আগুনে যেন ঘি পড়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে লাক্কি মারওয়াত থেকে গত ৪ তারিখ যে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের দিকে বেশ খানিকটা এগিয়েছে। পাক রাজধানীতে ঢোকার মুখে ইতিমধ্যেই ব্যারিকেড তৈরি করে ফেলা হয়েছে মিছিল ঠেকাতে। এই পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি জারি করায় পিটিআই নেতা জ়ুলফিকার বুখারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'গোটা দেশে আমরাই ছিলাম একমাত্র বৈধ ভাবে নির্বাচিত সরকার। এই প্রহসন দেশকে আরও রক্তপাত এবং অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিল। এর ফলে যে সমান্তরাল ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার দায় আমরা নেব না।'
সূত্রের খবর, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে দেশে যে অস্থিরতা বাড়তে পারে, সে ব্যাপারে পাক সরকার এবং সেনাকে আগেভাগেই সতর্ক করেছিলেন পাক গোয়েন্দারা। একটি সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এ ভাবে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিলে দেশের নিরাপত্তা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠবে। তবে সে সবে কর্ণপাত না-করে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির সরকার ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দা রিপোর্ট উল্লেখ করে ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে পিটিআই-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছে জমিয়ত উলেমা-এ-ইসলাম (এফ), আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টি এবং পাশতুন জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলি। তারা এক সুরে ইমার্জেন্সি ঘোষণার বিরোধিতা করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট উল্লেখ করে ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইমরানের পরিণতির জন্য মুনিরকেই কাঠগড়ায় তুলছেন পাশতুন বিদ্রোহীরা। খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনার উপরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এবং সেই ক্ষোভের আগুন পাখতুনখোয়া থেকে পাঞ্জাব প্রদেশেও ছড়াচ্ছে ক্রমশ। আর এই ক্ষোভের সুযোগেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই এলাকায় শিকড় মজবুত করেছে বলে জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু সূত্রের দাবি, মুনির এ সবে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করাই শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন।