নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিনিধি এস এম জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীপুর থানা রোডে শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক অংশ নেন। তারা সাংবাদিক হত্যার বিচার, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে সাংবাদিক এস এম জহিরুল ইসলামের বয়স ৩২ বছর। তিনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি দৈনিক আমার দেশ-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি ও শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক।
জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হস্তক্ষেপ করার জেরে প্রতিপক্ষের এক নারী তাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন। তার দাবি, মামলায় বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
দৈনিক আমাদের সময়-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি ও শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রীপুর প্রতিনিধি রাতুল মন্ডল।
এ সময় বক্তব্য দেন দৈনিক নয়া দিগন্তের শ্রীপুর প্রতিনিধি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, গাজীপুর সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মোজাহিদ, আশরাফুল ইসলাম সরকার, মুনসুরুল ইসলাম ও হাসান হাবিব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা শুধু ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের জন্যও বিপজ্জনক বার্তা। সাংবাদিক হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনার বিচার না হলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিকেরা যাতে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা কোনো বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকেরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় থানা রোডে এসে শেষ হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরফান আলী বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় আদালতে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।
