ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিনে ‘মহাঅষ্টমী’ আজ সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। সকাল থেকেই রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ঢল নেমেছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দিরে মহাঅষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন এবং চরণামৃত গ্রহণ করেন। এ সময় ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদও বিতরণ করা হয়।
অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় ‘সন্ধিপূজা’। সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই বিশেষ আচারটি সেই মুহূর্তটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ড নামক দুই অসুরকে বধ করার জন্য ‘চামুণ্ডা’ রূপ ধারণ করেছিলেন।
সারাদেশের কিছু মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুমারী পূজা’ এটি একটি ঐতিহ্যবাহী আচার, যেখানে একজন অল্পবয়সী অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা ও দিব্য নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই আচারের সময় সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সি, বয়ঃসন্ধি-পূর্ববর্তী একজন অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা ও দিব্য নারীশক্তির জীবন্ত প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।
এই বিশেষ আচারের অংশ হিসেবে ভক্তরা কুমারীর পায়ে জল, বস্ত্র, ফুল এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকার নিবেদন করেন।
গত শুক্রবার ‘মহাসপ্তমী’ বা মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হওয়ার পর থেকেই সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
নানা রঙের সাজসজ্জা, ঢাকের আওয়াজ, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে চারপাশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
ভক্তরা সারাদেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে প্রার্থনা ও উৎসব উপভোগ করছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে ২৫৮টি মণ্ডপ রয়েছে রাজধানীতে।
গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যাটি প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়েছে।
গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশন বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে অন্যতম জমকালো পূজার আয়োজন করেছে। এছাড়া রাজধানীর কলাবাগান মাঠ ও খামারবাড়িতে নির্মিত অস্থায়ী মণ্ডপগুলোও দর্শনার্থীদের জন্য প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেখানে বিশাল কাঠামো আর চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা মানুষের ভিড় টানছে।
আগামীকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে মহানবমী। এদিন ভক্তরা মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে সমবেত হয়ে অঞ্জলি দেবেন। পাশাপাশি পূজার শেষ পর্যায়ের আচার-অনুষ্ঠান ও ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হবে।
বুধবার উদযাপিত হবে বিজয়া দশমী, যা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন।
এদিন ভক্তরা শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে নদী, পুকুর বা অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন।
রাজধানীর পুরনো ঢাকার তাঁতিবাজার ও শাখারিবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার বড় পরিসরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
এছাড়া রমনা কালী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও উত্তরা সর্বজনীন মন্দিরেও উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: দুর্গাপূজা
৪ ঘন্টা আগে
১৭ অক্টোবর ২০২৬
১৭ অক্টোবর ২০২৬
