মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কাউন্টারে পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার সকালে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেনকে অচেতন অবস্থায় থাকতে দেখেন অন্য কাউন্টারের কর্মীরা। দ্রুত উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে বাস কাউন্টারের টেবিলের ওপর ও নিচে রক্ত পড়ে ছিল। প্রথম পর্যায়ে সাকের হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক। পরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর স্বজনেরা রক্ত দেখতে পেয়ে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তার মাথায় ক্ষত দেখতে পান। এরপর ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে গুলি বের করা হয়।
স্থানীয় ও স্বজনেরা বলছেন, ভোররাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে সাকেরকে গুলি করে। তারা হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ আনে পরিবার। এ ঘটনায় মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা। দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন রয়েল এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে, ময়নাতদন্তের সময় সাকেরের মাথা থেকে একটি গুলি বের করা হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজ সকাল থেকেই প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির কথা বলছিলেন। আমরাও এটিকে টার্গেট কিলিং বলে দাবি করছিলাম। এখন গুলি পাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল।’
সংসদ সদস্য জানান, সাকেরের মতো একজন রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যার পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। হত্যাকারীদের শনাক্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্টের সহিংসতায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান বের করারও দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের সময় সাকেরের মাথা থেকে একটি গুলি পাওয়া গেছে। সিভিল সার্জন মহোদয়ের প্রক্রিয়া শেষে গুলিটি ঢাকায় পাঠানোর পর জানা যাবে, এটি কী ধরনের গুলি। শহরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
