জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে ৯০টির বেশি টিকটিকি ও বিষধর সাপ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে শুল্ক কর্মকর্তারা। ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মেক্সিকোর একজন দমকলকর্মী। তার স্যুটকেসে শ্যাম্পু ও ক্রিমের বোতল, প্লাস্টিকের পাত্র এবং মোজার ভেতরে লুকানো অবস্থায় এসব টিকটিকি ও সাপ পাওয়া যায়। খবর বিবিসির।
শুল্ক কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরের ‘কিছু ঘোষণা করার নেই’ লেখা সংকেতযুক্ত পথ দিয়ে বের হওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে দৃশ্যত অস্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছিল। পরে তার শরীরে মাদক পরীক্ষা করা হলে কোকেনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর তার স্যুটকেস তল্লাশি করা হয়। তবে সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।
তল্লাশিতে ভাইপার, র্যাটলস্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ এবং ইগুয়ানাসহ নানা ধরনের টিকটিকি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩৭টি জীবিত বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি ছিল বলে জানিয়েছেন কোলন শুল্ক দপ্তরের মুখপাত্র ইয়েন্স আহল্যান্ড।
তিনি বলেন, স্যুটকেসে আনা স্মারকসামগ্রীর বিষয়ে বিমানবন্দরে আমার সহকর্মীরা অনেক কিছুই দেখেছেন। কিন্তু মেক্সিকো থেকে ৩৭টি জীবিত বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি আনার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
আহল্যান্ড জানান, সরীসৃপগুলোর কয়েকটিকে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল। মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে জার্মানি আসার পথে কয়েকটি প্রাণী মারা যায়।
নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যক্তি কর্মকর্তাদের জানান, ব্রাজিলের এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে প্রাণীগুলো নিয়ে এসেছেন তিনি।
তবে তাকে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তাকে বিমানে করে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়। বেঁচে যাওয়া প্রাণীগুলোকে জার্মানির একটি সাপের খামারে পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।
শুল্ক দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, গত বছর জার্মানিজুড়ে এক হাজার ৩০০টির বেশি ঘটনায় সংরক্ষিত প্রাণী, উদ্ভিদ এবং এগুলো থেকে তৈরি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জব্দ হওয়া প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৬০০-এর বেশি।
এর ছয় বছর আগে একই বিমানবন্দরে মেক্সিকো থেকে খেলনা ও মিষ্টির পার্সেলের ভেতরে লুকিয়ে আনা ২৬টি বিরল সরীসৃপ উদ্ধার করেছিলেন শুল্ক কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ১০টি ছিল মৃত। প্রাণীগুলো জার্মানির ব্যক্তিগত ক্রেতাদের কাছে পাঠানোর কথা ছিল।
সূত্র : বিবিসি
