জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের অতি-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহনশীল, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গ্রামীণ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উন্মুক্ত স্থাপত্য নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। দ্য ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘জলবায়ু-সহনশীল ও সাশ্রয়ী গ্রামীণ আবাসনের জন্য উন্মুক্ত স্থাপত্য নকশা প্রতিযোগিতা’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পিকেএসএফ ভবন-১-এর সম্মেলন কক্ষে পিকেএসএফ ও আইএবি-এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। পিকেএসএফ-এর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ হাসান খালেদ এবং আইএবি-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ড. মাসুদ উর রশিদ।
পিকেএসএফ জানায়, দেশে দুর্যোগ ও জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা ভৌগোলিক অঞ্চলগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য গ্রামীণ আবাসনের সেরা নকশা খুঁজে বের করাই হবে এই প্রতিযোগিতার প্রধান লক্ষ্য। এতে প্রধানত চারটি ভিন্ন জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে- উপকূলীয় এলাকা, হাওর ও জলাভূমি অঞ্চল, চর ও প্লাবনভূমি এবং পাহাড়ি ও বরেন্দ্র অঞ্চল। প্রতিটি অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক, আবহাওয়াগত ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে অভিজ্ঞ ও তরুণ স্থপতিদের কাছ থেকে আবাসন নকশা আহ্বান করা হবে। জমা পড়া নকশাগুলোর মধ্য থেকে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সরাসরি প্রয়োগের উপযোগী সেরা ১০টি অনন্য আবাসন মডেল নির্বাচন করবে পিকেএসএফ।
গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়নে পিকেএসএফ বর্তমানে ‘রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট’ (আরএইচএল) শীর্ষক একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে দেশের উপকূলীয় সাতটি জেলায় ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাড়ি নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
পিকেএসএফ ও আইএবি-এর এই নতুন যৌথ উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর, টেকসই ও সাশ্রয়ী টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এসআর/আরএফ
