চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দুর্গম ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ত্রিপুরা পল্লীতে এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো। নেই সুপেয় পানির সহজ ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেই বসবাস করছেন পল্লীর বাসিন্দারা। আর শিক্ষার আলো পেতে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টার দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয় শিশুদের।
সম্প্রতি ধোপাছড়ি ত্রিপুরা পল্লী পরিদর্শন করে এসব বাস্তবতা তুলে ধরেছেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পল্লীর বাসিন্দাদের জীবনসংগ্রাম ও মৌলিক নাগরিক সুবিধার সংকটের চিত্র তুলে ধরেন।
ইউএনওর বর্ণনা অনুযায়ী, পল্লীর যেসব পরিবারের সামর্থ্য রয়েছে, তারা সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের মাধ্যমে ঘরে সামান্য আলোর ব্যবস্থা করেছে। তবে অধিকাংশ পরিবারের জন্য সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসে। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
পানির সংকটও পল্লীর বাসিন্দাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করতে তাঁদের দূরের পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ জন্য শিশু ও নারীদের দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পানি বহন করতে হয়।
জীবিকার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। প্রতি বৃহস্পতিবার বাসিন্দারা নিজেদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বাজারে যান। দুর্গম পথ পেরিয়ে ফসল বিক্রির অর্থ দিয়ে পরিবারের খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটান তাঁরা। সেই অর্থ থেকে শিশুদের খাতা-কলম কেনার ব্যবস্থাও করতে হয়।
পল্লীর জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে ইউএনও মো. আবদুর রহমান বলেন, “এলাকাটি খুবই দুর্গম। এখানে বিদ্যুৎসহ কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। পানির ব্যবস্থাটাও খুবই দুরূহ। ১৯৮৬ সাল থেকে তারা এখানে বসবাস করছে। এই ত্রিপুরা পল্লীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।”
তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আলো নেই, পানি নেই, যোগাযোগ নেই—তবু মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম আছে, আছে স্বপ্ন দেখার সাহস।”
ধোপাছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, যোগাযোগব্যবস্থা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং সন্ধ্যার পর পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
পল্লী পরিদর্শনকালে ইউএনওর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মোহাম্মদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাওন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
The post অন্ধকারে ধোপাছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, শিক্ষার আলো খুঁজতে দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দেয় শিশুরা appeared first on ভোরের চেতনা.
