কালবেলা · সাধারণ
একই পরিবারের ছয়জনই মানসিক রোগী, কাটছে মানবেতর জীবন
১২/১০/২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে ছয় সদস্যের এক পরিবারের। স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। নেই উপার্জনক্ষম সদস্য, নিজস্ব জমি কিংবা স্থায়ী আয়ের উৎস। অসুস্থতা, অভাব আর চিকিৎসাবঞ্চনার মধ্যে পরিবারটির বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন অসুস্থ শরীর নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করা দোলেনা বেগম (৫৫)। তার সামান্য আয় ও সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতায় কোনোমতে চলে ছয়জনের সংসার।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুর হেলান গ্রামের এ পরিবারে রয়েছেন রঞ্জন (৬৫), তার স্ত্রী দোলেনা বেগম এবং তাদের চার সন্তান রনজি খাতুন (৩০), দেলোয়ার (২৩), অধিফা খাতুন (২০) ও দানিয়েল (১৭)।
পরিবারের দাবি, রঞ্জন জন্ম থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘রঞ্জন পাগলা’ নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ও চার সন্তানও একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে পরিবারটি। ফলে পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কাজ করে উপার্জন করার মতো কেউ নেই।
অন্যের জমিতে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরই তাদের একমাত্র আশ্রয়। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার জোটে না, সামর্থ্য নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ারও। অসুস্থতার পাশাপাশি দারিদ্র্য তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও নানা অস্বাভাবিক আচরণের মধ্য দিয়ে কাটে দিনের বড় একটি অংশ।
পরিবারটির বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি চাপ নিতে হচ্ছে দোলেনা বেগমকে। নিজের অসুস্থতা নিয়েও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন তিনি। দিন শেষে যে সামান্য মজুরি পান, তা দিয়েই ছয়জনের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। এর সঙ্গে তিন মাস পরপর পাওয়া প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ যোগ হলেও অভাব কাটে না।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে দোলেনা বেগম বলেন, গরিব ঘরের সন্তান আমি। পাগলা মানুষের সঙ্গে পরিবার বিয়ে দিছে। স্বামী কোনো কাজ করতে পারে না। আমি কষ্ট করে চারটা সন্তান বড় করেছি। ওরা সবাই অসুস্থ। ঠিকমতো খাইতে পারি না, খুব কষ্টে আছি।
পরিবারটির দুরবস্থার বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ববিতা খাতুন বলেন, পরিবারের সব সদস্যই সরকারি ভাতার আওতায় রয়েছেন। সরকারিভাবে নতুন কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে তাদের তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আগে আমার জানা ছিল না। তারা হাসপাতালে এলে চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
পরিবারটির সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗