আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর মুখে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেল বামেরা। উৎসবের আবহে মতপ্রকাশের অধিকার ও ঐতিহ্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে বনগাঁয় যশোর রোডের পুজো মণ্ডপের ১০০ মিটারের মধ্যেই সিপিএমের বুকস্টল বসানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, যাতে নির্বিঘ্নে ও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বইয়ের স্টল পরিচালিত হতে পারে, তার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, হাইকোর্টের নির্দেশ কতটা বাস্তবায়িত হল, সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও পুলিশ সুপারকে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দুর্গাপুজো উপলক্ষে বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুটি বুকস্টল করার আবেদন জানিয়েছিল বামেরা। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে অনুমতি না মেলায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি শেষমেশ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এদিন শুনানির সময় রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একাধিক কড়া প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তিনি জানতে চান, সেখানে যদি অন্য দল বা সংস্থাকে নানা সামগ্রী বিক্রির জন্য অস্থায়ী স্টল দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে বামেদের বই বিক্রির ক্ষেত্রে কেন আপত্তি তোলা হচ্ছে? গণতন্ত্রে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি এবং প্রশাসনের এই ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া উচিত বলেই মনে করিয়ে দেয় আদালত।
শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল যখন অনুমতিহীন নির্মাণ ও সুরক্ষার প্রশ্ন তোলেন, তখন কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিচারপতি বলেন, নিয়মের দোহাই দিলে এলাকার সমস্ত অস্থায়ী নির্মাণেই বুলডোজার চালানো উচিত এবং প্রশাসনকে সব ক্ষেত্রে এক অবস্থান নিতে হবে। বামেদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, বিগত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বুকস্টল কোনো জমি দখলের বিষয় নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, ঐতিহ্য ও গণতন্ত্রের পথ আটকে বই বিক্রি বন্ধ করা যায় না। আদালতের এই রায়ের পর শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করে সিপিএম নেতা ময়ূখ বিশ্বাস মন্তব্য করেছেন, প্রগতিশীল চিন্তা ও বইয়ের পাতাকে আটকে রাখার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, এখনও হবে না। আগামী ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
