নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ করেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে গেলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সকাল ৮টার দিকে উত্তরার আজমপুর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা সংগঠিত হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেলা ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি ছিলেন না। তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা জানাচ্ছিলেন।
মো. রেজাউল করিম বলেন, একপর্যায়ে যানবাহনে হামলা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পাল্টা ধাওয়া করে এবং কয়েকটি শব্দ গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে বর্তমান মজুরির কোনো সংগতি নেই বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। এ পরিস্থিতিতে মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শ্রমিক নেতা আবদুল বারেক আজকের পত্রিকাকে বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
এর আগে বুধবারও একই দাবিতে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নামেন। পরে তাঁদের অবরোধ বিমানবন্দর সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

