কণ্ঠের জাদুতে কয়েক দশক ধরে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। তাঁর গানে কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, আবার কখনো প্রাণখোলা আনন্দ খুঁজে পেয়েছে শ্রোতারা। তিনি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কিশোর কুমার। কিন্তু জানেন কি, মুম্বাইয়ের মতো ব্যস্ত নগরী কিংবা পরিবারের শিকড় জড়িয়ে থাকা কলকাতায় নয়, মৃত্যুর পর এই শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল তাঁর জন্মভূমি খান্ডোয়ায়। এর পেছনে রয়েছে নিজের মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসার গল্প।
১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায় জন্মগ্রহণ করেন কিশোর কুমার। তাঁর আসল নাম আভাস কুমার গাঙ্গুলি। সংগীত ও অভিনয়ের জগতে নিজের অসাধারণ প্রতিভায় তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় বিনোদনজগতের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
খ্যাতি, অর্থ আর সাফল্য—সবকিছুই এসেছিল তাঁর জীবনে। বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত খান্ডোয়ার প্রতি তাঁর টান ছিল গভীর। বিভিন্ন সময়ে নিজের জন্মভূমির পরিচয় তুলে ধরতেও গর্ব অনুভব করতেন তিনি।
মুম্ইায়ের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে একদিন খান্ডোয়ায় ফিরে গিয়ে সাধারণভাবে জীবন কাটানোর ইচ্ছার কথাও বলতেন এই শিল্পী। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিজের মাটিতে শান্তিতে থাকার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তাই খান্ডোয়া তাঁর কাছে কেবল একটি শহর ছিল না, ছিল শৈশব, স্মৃতি আর আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।
১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর মুম্বইয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কিশোর কুমার। মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় জন্মভূমি খান্ডোয়ায়। যে মাটিতে তাঁর জীবনের শুরু, সেই মাটিতেই শেষ বিদায়ের ঘটনা ভক্তদের কাছে বিশেষ আবেগের।
আজও কিশোর কুমারের গান শুনে আবেগাপ্লুত হন অসংখ্য মানুষ। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সংগীতের ধারা, এসেছে নতুন প্রজন্মের শিল্পী। তবু তাঁর কণ্ঠের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি।
খ্যাতি তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল সাফল্যের শিখরে, কিন্তু জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা ছিল অটুট। তাই কিশোর কুমারের গল্পে সংগীতের পাশাপাশি আজও ফিরে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আবেগ।
