প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জেএম সেন হল পরিদর্শনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রত্যয় বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক যাত্রা মোহন সেন (জেএম সেন) হলে শারদীয় দুর্গোৎসবের মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
তিনি বলেন, “আমার তো মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো খুব কম সরকারপ্রধানই বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, প্রতিটি কর্মের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দের জন্য যথাক্রমে চার কোটি ও তিন কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে যথাক্রমে পাঁচ কোটি ও চার কোটি টাকা করেছেন। দুর্গাপূজার প্রতিটি মণ্ডপে চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমবারের মতো একজন সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। একদিকে মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; অন্যদিকে রাজনীতিবিদেরা যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করেন, তারও প্রমাণ মিলছে।’
মীর হেলাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আরেকটি উদাহরণ।
ঐতিহাসিক জে এম সেন হল চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও সৌজন্য বিনিময় করবেন।
এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সাগরিকা এলাকায় হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কোনো সরকারপ্রধান আমাদের চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবে আসেননি। তিনি আসছেন, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে স্বাগত জানাব। তার কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা- একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করতে পারে।’
জে এম সেন হলের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সেখানে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম, স্থানীয় রাজনীতি ও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কর্মসূচির স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।
