লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে নুরনবী নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক দায়রা জজ নিত্যানন্দ সরকার।
সাজাপ্রাপ্ত নুরনবী হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর বিছনদই এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে।
এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বাবার শাকক্ষেত দেখতে গিয়েছিল এক স্কুলছাত্রী। সেখানে মাঠে কাজ করা নুরনবী ওই স্কুলছাত্রীকে মাঠে একা পেয়ে তাকে পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর পরিবার হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় নুরনবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারকার্য শুরু করেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি ও ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আজ সোমবার আসামির উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করার দায়ে নুরনবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড। একই সঙ্গে ভিডিও ধারণ করায় পর্নোগ্রাফি আইনের একটি ধারায় নুরনবীকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
পর্নোগ্রাফির অপর একটি ধারায় নুরনবীকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ মামলার পর্নোগ্রাফি আইনে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার মোবারক আলী ও বেলাল হোসেনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান জানান, এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে।

