কক্সবাজারের সৈকতপাড়ের হোটেল সি প্রিন্সেসের বেজমেন্টে জেনারেটর কক্ষে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের দ্রুত তৎপরতায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে আতঙ্কে অনেক পর্যটক লাগেজ নিয়ে হোটেল ছেড়ে চলে যান।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় সেখানে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের পর জেনারেটর চালু করা হলে এর ফিল্টার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জেনারেটর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়াকে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হোটেল সি প্রিন্সেসের সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. মিজান বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টির কারণে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ দলের সদস্যরা কাজ শুরু করেন। নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
মিজান আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই হোটেলের কর্মীদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেন।
হোটেল সি প্রিন্সেসের পরিচালক কুতুব উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার পর জেনারেটর চালু করা হয়েছিল। এরপর জেনারেটরের ফিল্টার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। হোটেলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের দ্রুত পদক্ষেপে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
কুতুব উদ্দিনের ভাষ্য, আগুন লাগার পরপরই অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হোটেলে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাঁদের কেউ হতাহত হননি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে খবর পেয়ে তাঁর নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছে তাঁরা দেখতে পান, হোটেল কর্তৃপক্ষের কর্মীরা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন প্রায় নিভে যাওয়ায় পুনরায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে জেনারেটর কক্ষে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ, প্রশিক্ষিত জনবল ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ব্যবহারের প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি হোটেলে প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম থাকা জরুরি। অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব আলম বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে হোটেল সি প্রিন্সেসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। হোটেলের কর্মচারী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। পরে বিকেল চারটার দিকে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যায়। বিকেল চারটার পর অনেক পর্যটককে লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে হোটেলের কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
