দিল্লিতে ‘তেরঙ্গা’ কর্মসূচির আগে আটক করা হয়েছিল দু’জনকেই। শনিবার সকালে মুক্তি পেলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সভানেত্রী নেহা বোর়া। অন্য দিকে, কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে সতর্কতামূলক ভাবে গ্রেপ্তার (Preventive Arrest) করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁকে স্পেশাল এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) আদালতে পেশ করার কথা। তবে শনিবার সকাল পর্যন্ত দীপকের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর দল। আইনজীবীরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে অভিযোগ।
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলের ডাক দিয়েছিল CJP। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ঝান্ডেওয়ালান এলাকা থেকে দীপকে এবং মাণ্ডি হাউস থেকে নেহাকে আটক করে পুলিশ।
কেন গ্রেপ্তার দীপকে?
দিল্লি পুলিশের দাবি, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থেকেই দু’জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১২৬ ও ১৭০ নম্বর ধারায় দীপকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। তাঁকে স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
CJP-র আইনজীবী রত্না সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, দীপকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু তাঁর অবস্থান এখনও জানা যাচ্ছে না এবং আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এর আগে দীপকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগও তুলেছিল দলটি।
মুক্তির পরে কী বললেন নেহা?
নেহা বোরাকে অবশ্য শনিবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ আইন, ১৯৭৮-এর ৬৫ নম্বর ধারায় আটক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুক্তির পরে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন AISA নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের আটক করে রাতভর হেফাজতে রাখা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। সাধারণ নাগরিকদের অপরাধীদের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন নেহা।
SIR ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে CJP ও একাধিক ছাত্র সংগঠন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানানো হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দীপকের গ্রেপ্তারি ও নেহার মুক্তিকে ঘিরে দিল্লিতে প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তুঙ্গে।
