আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান দুর্গাপুজোর মর্মান্তিক ঘটনায় তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এবারের প্রকাশ্যে। লালবাজার সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত পুলিশ যে কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে- তাতে পুলিশকর্মীদের হুড়োহুড়ির সময় দড়ি ছাড়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি মণ্ডপ থেকে বাইরে বের হওয়ার পথে বেশ কয়েকটি স্টল বসানো হয়েছিল। তার কোনও অনুমতি ছিল না বলেই জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে স্টল বসানোর অনুমতি কারা দিয়েছিল সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃষ্টির এবং ভুল ঘোষণার জেরেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে এই বিষয়টিকে ভিত্তি করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার প্রবেশ পথ অনেকটাই ফাঁকা ছিল। মণ্ডপ থেকে বাইরের বের হওয়ার রাস্তারও একই অবস্থা ছিল। পুলিশের বক্তব্য, যে ঘোষণা করা হয়েছিল তা এক এবং একমাত্র বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের জন্য। ভিতরে থাকা দর্শনার্থীদের কাছে তা পৌঁছোনোর কথা নয়।
যে সময় ঘটনাটি ঘটে সেই সময় পুলিশ, হোমগার্ড এবং পুজোর ভলান্টিয়ার নিয়ে প্রায় ১২০-১২৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার মধ্যে ৫০ জন অস্থায়ী হোমগার্ড ছিল এবং পুলিশ কর্মী ছিল ৭০ থেকে ৭৫ জন। সেই সময় এক ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক দায়িত্বে থাকলেও, সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম দেখে দু’জন আইপিএস রাঙ্কের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদা আধিকারিক-কে চোরবাগান এলাকায় আনা হয় ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য। যার মধ্যে দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল বিভাগের ডেপুটি কমিশনার এবং পূর্ব বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।
পুজোর আগে যে কমিটির তরফ থেকে আবেদন করা হয় যে, কী বন্দোবস্ত সেখানে করা হচ্ছে তা বিস্তারিত জানাতে হবে পুলিশকে। তার পরেই অনুমতি মেলে। সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখবে পুলিশ। কোনটা মানা হয়নি তা মিলিয়ে দেখবে সিট। এমনটাই জানিয়েছে লালবাজার পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান আরও জানিয়েছেন, মণ্ডপের দুই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ মণ্ডপের ভেতর এবং প্রবেশদ্বার সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। যা ভিড় ছিল তা বাইরের গেটে। সেই সময় বৃষ্টির কারণে বাইরের লোকজন বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য মণ্ডপে ঢুকে পড়ে। আর তারপরেই মাইকিংয়ের ঘটনা ঘটে। সেই কারণেই পদপৃষ্ঠের মত ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। তবে মাইকিং এর সময় এখনও স্পষ্ট নয়। কোন সময় মাইকিং করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলেই জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুনাল আগারওয়াল।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার চোরবাগানের বিপর্যয়স্থল পরিদর্শনে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বিশেষ এই দলে উপস্থিত ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগ (ডিডি)-এর পদস্থ কর্তারা, হোমিসাইড শাখার তদন্তকারী আধিকারিকরা। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ওই ছয় জনের তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী।
