তীব্র গরম আর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে ডাবের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে খুচরা বাজারে কয়েক গুণ বেড়েছে পণ্যটির দাম। বাগান থেকে প্রতিটি ডাব ৪০-৫৫ টাকায় কেনা হলেও ফড়িয়া ও আড়তদারদের হাত ঘুরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
বাগান থেকে মান ও আকারভেদে প্রান্তিক কৃষক বা গৃহস্থ প্রতিটি ডাব বিক্রি করছে
৪০ থেকে ৫৫ টাকা করে। এই দাম পেতে আবার অপেক্ষা করতে হয় পাইকারদের মর্জির ওপর। বাজারে ডাবের ব্যাপক চাহিদা থাকার পরেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন গৃহস্থরা।
বাগান থেকে নামানো ডাব প্রথমে নেওয়া হয় স্থানীয় বাজারে। সেখান গিয়ে প্রতি পিস ডাবের দাম বেড়ে যায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এই অর্থের বেশিরভাগই যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে। যদিও শ্রমিক ও পরিবহনের খরচের কথা বলছেন তারা। একই সঙ্গে এই ডাব ঢাকায় গিয়ে আড়তদারদের হাত ঘুরে খচুরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়।
ক্রেতারা বলছেন, জেলায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপে ডাবের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ফলন কমের অজুহাতে উচ্চমূল্যের অতীত রেকর্ড ভেঙেছে ডাবের দাম। স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক বা গৃহস্থের কাছ থেকে কেনা ডাব হাত বদলে দাম বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। এতে করে ডাব কিনতে গিয়ে হিমশিম অবস্থায় সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করে ডাবের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।
স্থানীয় মোকাম হয়ে এই ডাবের বড় অংশ চলে যায় রাজধানীতে। আর কিছু অংশ বিক্রি হয় স্থানীয় বাজারে। জেলাশহরে সদর রোডে, টাউনক্লাব, কালীবাড়ি মোড়ে ও হাসপাতালের সামনে প্রতিটি ডাব বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৪০ টাকা করে।
ডাব ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, আমি ৫/৬ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এখন ডাবের চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে গৃহস্থদের গাছ থেকে ডাব কিনে থাকি। লেবার খরচ, গাড়ি ভাড়া বাদে এ ব্যবসায় মোটামুটি ভালোই লাভ হচ্ছে। তা ছাড়া পিরোজপুরের ডাবে প্রচুর পরিমাণ পানি ও এর স্বাদ মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা বেশি।
এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, ডাবের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং করা হবে।
