প্রকাশিত: ০৯:৪৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ১০:১৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুর সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
পিরোজপুরের কালিগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করছেন ফয়ার সার্ভিসের সদস্যরা
পিরোজপুরের কালিগঙ্গা নদীতে ট্রলার ডুবে অর্পিতা বেপারী নামে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা রিনা বেপারী নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাত ১২টার দিকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
নিখোঁজ রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের সংকর বেপারীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পেশায় ঢাকার এক প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড শংকর বেপারী দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে ভরতকাঠীর গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকা থেকে পূজা দেখে ট্রলারযোগে স্বপরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাত ৯টার দিকে ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী প্রান্ত থেকে ভরতকাঠী ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা করে। নদীর ঢেউয়ে ট্রলারটি একপ্রান্ত ফেরি ঘাটের পন্টুনের সাথে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীগর্ভে ডুবে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা অন্যরা লাফিয়ে ফেরীর পন্টুনে উঠলেও শংকর বেপারীর স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল রাত ১২টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করে। রাত ৩ টার দিকে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে নাজিরপুর পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রলারের এক যাত্রী জানান, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ওঠানোর কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং নাজিরপুর প্রান্তেই ডুবে যায়। অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় কূলে উঠতে সক্ষম হলেও শংকর বেপারীর স্ত্রী ও শিশু সন্তান নিখোঁজ হন।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠি প্রান্তে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ট্রলারটি ডুবে গেছে। এ ঘটনায় মা ও মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ নারীর সন্ধানে কাজ চলছে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক রায়হানুর আশরাফ বলেন, ট্রলার দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাত গভীর হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ট্রলারের এক পাশ কাত হয়ে ট্রলারে থাকা যাত্রীরা নদীতে পড়ে যায়। ট্রলারের থাকা অন্যান্য যাত্রীরা উঠতে পারলেও মা ও মেয়ে উঠতে পারেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহযোগিতায় মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং মাকে এখন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কারো অবহেলা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
