আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ গোল দিতে পারত ইস্টবেঙ্গল। ঘরের মাঠে জেতা ম্যাচ। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে, প্রথমার্ধেই শেষ হয়ে যায় খেলা। সেখানে তিন পয়েন্ট খুইয়ে মাঠ ছাড়তে হল। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের আফশোস হওয়া স্বাভাবিক। ম্যাচের পর হতাশা লুকোনোর চেষ্টা করেননি বর্ষীয়ান কোচ। স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাবাস বলেন, 'ফলাফলে আমি খুশি নই। তবে আমার মনে হয়, আজ আমাদের ম্যাচ জেতার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। আমরা অন্তত পাঁচ-ছটা পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করেছি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়েও আমরা পিছিয়ে ছিলাম না। কিন্তু এত সুযোগ তৈরি করেও আমরা মাত্র দুটো গোল করেছি। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেছে। এটাই আজকের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।'
প্রথমার্ধে আক্রমণের ঝড় তোলার পর দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা স্মান। তবে তারমধ্যে দুই থেকে তিনটি সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। এই প্রসঙ্গে হাবাস বলেন, 'দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ম্যাচটা জিততে পারিনি। অথচ গোল করার জন্য আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। বিরতিতে ফুটবলারদের বলেছিলাম, আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয়, ম্যাচের শেষদিকে দু'তিন মিনিটের জন্যও যদি আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারতাম, তাহলে ফল অন্যরকম হতে পারত।'
এদিন মাত্র ১২,০০০ টিকিট বাজারে ছাড়া হয়েছিল। যার ফলে ফাঁকাই ছিল যুবভারতী। সেই খবর বোধহয় ছিল না হাবাসের কাছে। তাই সমর্থকদের জন্য দেন বিশেষ বার্তা। হাবাস বলেন, 'দর্শকদের সমর্থনও আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দল যখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়, তখনই সমর্থকদের পাশে থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। শুধু দল জিতলে নয়, হারলেও সমর্থকদের পাশে থাকা উচিত।' গোলের একাধিক সুযোগ নষ্টের পাশাপাশি নড়বড়ে রক্ষণ। কিছু সহজ গোল হজম করেছে ইস্টবেঙ্গল। ফুটবলারদের মনঃসংযোগের অভাব ছিল? হাবাস বলেন, 'রক্ষণে আমরা কিছু বোকামি করেছি। কয়েকটা মুহূর্তে ফুটবলারদের মধ্যে মনঃসংযোগ, দায়বদ্ধতা এবং সতর্কতার অভাব স্পষ্ট ছিল। রক্ষণ সামলানোর সময় এই ভুলগুলো করা যায় না। বিষয়টা খুবই পরিষ্কার।'
আল শোর্তার কোচ দাবি করেন, দ্বিতীয়ার্ধে শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচে। ইরাকের কোচের সঙ্গে একমত নন হাবাস। তবে দলের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে যে পুরোপুরি খুশি নয়, সেটা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। দুই ম্যাচ খেলে সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট। পরের পর্বে যোগ্যতা অর্জনের বিষয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী? আশা ছাড়ছেন না স্প্যানিশ কোচ। হাবাস বলেন, 'আমি আত্মবিশ্বাসী। এখনও আমাদের দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ এবং দুটো ঘরের মাঠের ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে।' এএফসি থেকে ফোকাস সরিয়ে এবার আইএসএল। রবিবার প্রথম ম্যাচে গোয়ায় চার্চিল ব্রাদার্সের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল।
