কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার কালীপুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণে আগাম তৎপর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। নৈহাটির বড়মার মন্দিরে কালীপুজোর সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। সেই বিপুল ভিড় সামাল দিতে এবং কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করল পুলিশ প্রশাসন। পদক্ষেপ করছে মন্দির কমিটিও। থাকছে ড্রোনের ব্যবস্থা। থাকবেন বহু স্বেচ্ছাসেবক, জানিয়েছেন কমিটির এক মুখপাত্র।
শনিবার সকালে নৈহাটির বড়মার মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বড়মার মন্দির ফাঁড়ি ও নৈহাটি থানার পুলিশ আধিকারিকেরা। মন্দির চত্বরের পাশাপাশি নৈহাটির গঙ্গাঘাট থেকে অরবিন্দ রোডের বিভিন্ন এলাকাও ঘুরে দেখেন তাঁরা। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বাহিরের পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা এবং নৈহাটি রেলস্টেশন থেকে আসা দর্শনার্থীদের চাপ কী ভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখেন পুলিশ আধিকারিকেরা।
অমিত জানান, বড়মার মন্দিরে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এ বারও প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ মানুষ দর্শন করতে আসতে পারেন বলে অনুমান। তাই আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রাথমিক পরিদর্শন। বিভিন্ন রাস্তা, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এবং রেলস্টেশন থেকে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। কী ভাবে আরও ভাল নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে অন্যান্য আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ‘‘আগামী ২৯ তারিখ (বৃহস্পতিবার) একটি সমন্বয় বৈঠক হবে। সেখানে স্থানীয় বিধায়ক, মন্দির কমিটির সদস্য এবং এলাকার অন্যান্য মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। ডেপুটি কমিশনার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এবং থানার আধিকারিকদেরও এই পরিকল্পনায় যুক্ত করা হচ্ছে।’’
বড়মা মন্দির কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় জানান, এই ধরনের বড় মাপের পুজো সামলাতে নিঁখুত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দর্শনার্থীদের জন্য একমুখী (ওয়ান ওয়ে) যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নদিয়া জুট মিলের দিক হয়ে গঙ্গার পাশ ধরে মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে। দর্শন শেষে অরবিন্দ রোড হয়ে বাইরে যাওয়ার পথ। উপর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর রাখতে উড়বে ড্রোন। পাশাপাশি, এনসিসি (ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস), র্যাফ, প্যারামিলিটারি, স্কাউট অ্যান্ড গাইড এবং কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কমিটির তরফে মোতায়েন করা হবে ৫০০-রও বেশি স্বেচ্ছাসেবক।’’ বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে গঙ্গার ঘাটেও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
