ভারত থেকে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা দেখতে আসা পর্যটকরাও এ দেশের পূজার পরিবেশের প্রশংসা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ভারত থেকে অনেক পর্যটক বাংলাদেশে পূজা দেখতে এসেছেন। তাঁদের ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা বাংলাদেশের পূজার পরিবেশ নিয়ে প্রশংসা করছেন। তাঁদের অনেকে বলছেন, ভারতে যে পরিবেশে পূজা হয়, তার চেয়েও আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলাদেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ উদযাপন করলেও এর আনন্দ ও উৎসবের পরিবেশ অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই বলা হয়, উৎসব যার যার, কিন্তু উৎসবের আনন্দ সবার।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বগুড়ার মালতিনগরে তাঁদের বাড়ির সামনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশাল মেলা বসত। তাঁরা সারা বছর অপেক্ষা করতেন সেই মেলা থেকে খেলনা পিস্তল ও নানা ধরনের বেলুন কেনার জন্য। উৎসবের আনন্দ এভাবেই অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকেও স্পর্শ করে। উৎসবের এই সর্বজনীনতা যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অতীতেও বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে এ ধরনের প্রশ্ন ওঠেনি। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে জঙ্গিবাদ নিয়ে এমন আলোচনা ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সমাজের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। দেশীয় একটি শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা এ প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ছাত্রসমাজ ও তরুণদের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই পরিবেশে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এখন মানুষ গণতান্ত্রিক ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ দেখতে পাচ্ছে। প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়, জাতি, উপজাতি ও নৃগোষ্ঠী নির্বিঘ্নে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে নিজেদের উৎসব পালন করছে।
তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটি সম্ভব হয়েছে। তাহলে জঙ্গিবাদ, উসকানি ও ষড়যন্ত্রের যেসব কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো কোথায়? তাঁর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে অতিরিক্ত প্রচার চালানো এবং মানুষের মধ্যে বিদ্বেষের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে মিথ্যাকে কখনো সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
রিজভী বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ফেসবুক ও ইউটিউবে বাংলাদেশের পূজা দেখতে আসা ভারতীয় পর্যটকদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে। অনেক দম্পতি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁদের অনেকের আত্মীয়স্বজনও এ দেশে থাকেন। সাংবাদিকদের নেওয়া সাক্ষাৎকারেও বাংলাদেশের পূজার পরিবেশ সম্পর্কে তাঁদের ইতিবাচক মন্তব্য উঠে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িকতা, পারস্পরিক মেলবন্ধন ও ভ্রাতৃত্বের ইতিহাস কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে একটি গণবিরোধী চক্র। গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে এ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রিজভী বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
