নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৪৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত’র ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদকে দায়ী করার কথা লিখেছেন তিনি।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘AC Land Jamalganj’ নামের পেজে এসব পোস্ট দেখা যায়। একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদকে দায়ী থাকবে।’ তার কিছুক্ষণ পর কিছু দেয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার।
জানাযায়, বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন এসিল্যান্ড মো. আরিফুর রহমান শান্ত। তবে বিষয়টি এতোদিন পারিবারিকভাবে থাকলেও গতকাল শনিবার জামালগঞ্জ উপজেলার ইউএনও শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিন ছিল। সেখাসে স্বপরিবারে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড। সেখানে ইউএনও মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এসিল্যান্ড শান্ত। এসময় তিনি ইউএনও নিরাপত্তায় থাকায় আনসার সদস্যদের গায়েও হাত তুলেন। পরবর্তীতে এসিল্যান্ডকে ধরে সবাই বাসায় নিয়ে গেলে সেখানে চারটি পানি খাবার গ্লাস ভাঙেন তিনি এবং দৌড়ে নিচে নেমে বাসার সামনে থাকা দুই বাচ্চাকেও মারধর করেন তিনি। তার মধ্যেই তিনি ফেইসবুকে দুটি পোস্ট করেন যার একটি ছিল মৃত্যুর জন্য দায়ী শিল্পী রাণী মোদক ও অন্যটি আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার। এসসময় ইউএনও জামালগঞ্জ থানায় ওসিকে ফোন করে নিরাপত্তা চাইলে পুলিশ এসে তাকে ধরে রুমে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে রোববার সকালে তাকে সিলেটে পাঠানো হলে প্রথমে মাউন্ট এডোরা হসপিটাল ও পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসিল্যান্ডকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। বর্তমানে তাকে বহকারী গাড়িটি ভৈরবে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা
এ জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সে তার স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল আমার মেয়ের জন্মদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটার পর থেকেই সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। সে আমার আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তুলে তারপর বাচ্চাদেরও মারধর করেছে। তার পরিবারের সাথে কথা বলে জেনেছি তাকে ডাক্তার প্রেসক্রাইব করা দুটি ঘুমের ইনজেকশন দিতে হয় কিন্তু এসকল ওষুধ জামালগঞ্জের কোনো ফার্মেসীতে পাওয়া যায় না। তাছাড়া তার স্ত্রী গর্ভবতী হাওয়ায় আমার চিন্তা আরও বেড়ে যায় তখন বাসায় গিয়ে দেখি সে গ্লাস ভেঙেছে অদ্ভুত আচরণ করতেছে। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ফোন করে বাসায় নিয়ে এসে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, আমি সকালে তার বাবার সাথে কথা বলেছি তার বাবা আমাকে বলেছেন ওকে ঘুমাতে দেয় কয়েক ঘন্টা তারপর ঠিক হয়ে যাবে। আমি অবাক হয়েছি এমন একজন মানুষ সিভিল সার্ভিসে কাজ করে যাচ্ছে আমরা বুঝতে পারিনি। আমি তার আগের কর্মস্থলে কথা বললাম তারা আমাকে বললেন সে মানসিকভাবে অসুস্থ। সে এমন পোস্ট কেন করল কি হল আমি কিছুই বুঝলাম না। আমার মেয়ের জন্মদিনের কেক খেয়েছে সবার সাথে গল্প করেছে তাররপর হঠাৎ কি হয়ে গেলে আমি বুঝলাম না। এখন আপাতত তাকে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে আমিও চাই সে সুস্থ হয়ে তার কর্মস্থলে ফিরুক।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, আমি ইউএনও স্যারের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স নিয়ে যাই। তিনি আমাকে জানান আমার এসিল্যান্ড অস্বাভাবিক আচরণ করছে তখন আমরা ফোর্স নিয়ে গিয়ে উনাকে শান্ত করি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
