সংবাদ · সাধারণ
শিশুর ক্যানসারের যে লক্ষণ গুলো অবহেলা করা ঠিক নয়
১২/১০/২০২৬

শিশুর অসুস্থতাকে সাধারণ ক্লান্তি বা মৌসুমি সমস্যার লক্ষণ ভেবে অনেক সময় গুরুত্ব দেন না অভিভাবকেরা। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক পরিবর্তন কখনো কখনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। যুক্তরাজ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের রোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। সেখানে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৯০০ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। অথচ সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অভিভাবক শিশুদের ক্যানসারের লক্ষণ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারেন।শিশুদের শরীরে ক্যানসার বড়দের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্তানের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।যেসব শারীরিক পরিবর্তন অবহেলা করবেন নাশিশুরা সব সময় নিজেদের অসুস্থতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না। এ কারণে অভিভাবকদেরই লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বব ফিলিপসের মতে, কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা ক্রমেই বাড়তে থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।সতর্ক হওয়ার মতো লক্ষণগুলো হলো:অস্বাভাবিক ক্লান্তি: অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা দীর্ঘ সময় অবসাদে ভোগা।ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া: চেহারা বা শরীরের রং ফ্যাকাশে দেখানো, যা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ হতে পারে।আঘাত ছাড়াই কালসিটে দাগ: শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোনো আঘাত ছাড়াই কালসিটে বা লালচে দাগ দেখা দেওয়া।শরীরে চাকা বা ফোলা: শরীরের কোনো অংশে চাকা বা ফোলা দেখা দেওয়া এবং সময়ের সঙ্গে তা না কমে বরং বড় হতে থাকা।সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল হতে পারেক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেক সময় স্বাভাবিক ক্লান্তি, সর্দি-কাশি কিংবা স্কুলের ব্যস্ততার প্রভাব বলে মনে করেন অভিভাবকেরা। এমন ভুল ধারণার কারণে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।যুক্তরাজ্যের ১৩ বছর বয়সী অ্যামেলিয়ার ক্ষেত্রেও প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টে ভুগলেও তার সমস্যাকে শারীরিকভাবে ফিট না থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়েছিল। পরে শরীরে লালচে দাগ ও কালসিটে দেখা দিলে পরীক্ষা করা হয়। তখন তার লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে।তবে সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় অ্যামেলিয়া এখন সুস্থ জীবন কাটাচ্ছে।দ্রুত রোগ শনাক্তের গুরুত্বচিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে সময়মতো ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গেলে প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু সুস্থ জীবনে ফিরে আসে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসাও তুলনামূলক কম কষ্টদায়ক হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমে বাড়লে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗