নয়াদিল্লি, ১৮ অক্টোবর – মাঝআকাশে হাজার হাজার ফুট ওপরে যখন মৃত্যুভয় আর আতঙ্কের প্রহর গুনছিলেন সবাই, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা! ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝআকাশে হঠাৎ খুলে গেল একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা। চারপাশের প্রবল বাতাসের তোড় আর তীব্র আতঙ্কের মধ্যেও সাহসিকতার চরম পরিচয় দিয়ে সেই খোলা দরজা শক্ত করে ধরে রাখলেন বিমানে থাকা মুমূর্ষু রোগীর স্বজনেরা।
জীবন-মৃত্যুর এই চরম লড়াইয়ের মুখে ফ্লাইটটি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত জরুরি অবতরণ করে। তবে বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামলেও শেষ রক্ষা করা যায়নি ভেতরে থাকা অসুস্থ রোগীকে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলের দিকে আকাশপথে এই শিউরে ওঠার মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঠিক কী ঘটেছিল মেঘের ওপরে?
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ছোট আকারের এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের ‘এসকেবি ইনফ্র্যাকন প্রাইভেট লিমিটেড’ (SKB Infracon Private Limited)-এর মালিকানাধীন। এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে রোগী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয় মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি—মাঝআকাশে উড়োজাহাজটির দরজা হঠাৎ খুলে যায়!
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিপজ্জনক এই পরিস্থিতিতে পাইলটরা দ্রুত ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। ঢাকার কন্ট্রোল টাওয়ার কালবিলম্ব না করে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণের ব্যবস্থা করে দেয়।
স্বজনদের সাহসিকতা এবং এক করুণ পরিণতি
বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ছিল বিভীষিকাময়। যখন তীব্র বাতাসে ভেতরে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার উপক্রম, তখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা রোগী অঞ্জনা ভৌমিকের দুই স্বজন—শান্তা ভৌমিক ও দ্বীপ জয়তি মুশরিপ সাহসিকতার সঙ্গে দরজার হাতল ও ফ্রেম শক্ত করে ধরে রাখেন, যাতে বাতাসের চাপে কেউ বাইরে ছিটকে না পড়েন বা বিমানটির ভারসাম্য নষ্ট না হয়।
জরুরি অবতরণের পরপরই বিমানবন্দর থেকে দ্রুততম সময়ে অসুস্থ রোগী অঞ্জনা ভৌমিককে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ফ্লাইটে কারা ছিলেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা?
ক্যাপ্টেন পূণ্য অনূপ এবং ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মার পরিচালনাধীন এই ছোট উড়োজাহাজটিতে রোগীসহ মোট ৭ জন আরোহী ছিলেন।
যাত্রীদের তালিকা: মৃত রোগী অঞ্জনা ভৌমিক, তাঁর দুই স্বজন (শান্তা ভৌমিক ও দ্বীপ জয়তি মুশরিপ), ডা. ফিরোজ খান এবং প্যারামেডিক আজিম খান।
অন্যান্য আরোহীদের অবস্থা: ফ্লাইটে থাকা পাইলট ও চিকিৎসকসহ অন্য সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।
আইনি ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা:
যেহেতু এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট (Domestic Flight) ছিল, তাই বিমানে থাকা যাত্রী বা ক্রু কারও কাছেই কোনো পাসপোর্ট বা আন্তর্জাতিক ভিসা ছিল না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে অবতরণ করায় দেশের বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আকাশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
মাঝআকাশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা কেবল বিরলই নয়, এটি চরমতম গাফিলতি ও নিরাপত্তার বড় ধরনের ঘাটতিকে নির্দেশ করে। একজন মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে ওড়ার আগে উড়োজাহাজটির ফিটনেস এবং মেকানিক্যাল চেকিং সঠিকভাবে করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। মাঝআকাশের এই আতঙ্ক হয়তো রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রাণ কেড়ে নিল।
এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::মাঝআকাশে ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা গায়েব! শাহজালালে জরুরি অবতরণ first appeared on DesheBideshe.