ময়মনসিংহের ভালুকায় এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে তাজমিনা (৩১) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অসুস্থ বোধ করার পরও ছুটি না দেওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তাজমিনা। পরে তাঁকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালটিতে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভালুকা শিল্প পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফেরদৌস। তিনি জানান, কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই নারী শ্রমিককে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় তাজমিনা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চেয়েছিলেন। তবে তাঁকে ছুটি না দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
তাজমিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা তাজমিনার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং কর্মস্থলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্মস্থলে কোনো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত। তাজমিনার মৃত্যুর ঘটনায় কারখানার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা।
তবে তাজমিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে ছুটি না দেওয়া হয়েছিল কি না এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেডের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।