পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে ছোটেননি নাটোরের গুরুদাসপুরের তরুণ মিজানুর রহমান মুন্না (৩০)। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন বিদেশি জাতের আঙুর চাষ। প্রথমবারেই থোকায় থোকায় মিষ্টি ও সুস্বাদু আঙুর ঝুলছে তার বাগানে। তার এই অভাবনীয় সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকরা কৃষিতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার নতুন প্রেরণা পাচ্ছেন।
উপজেলার চরকাদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালেবের ছেলে মুন্না ২০১৮ সালে ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এরপর ব্যবসায় নেমে লোকসান গুনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে দমে যাননি তিনি। নাটোরের লালপুরে ‘অ্যাগ্রো ফুড’ বিষয়ে তিন মাসের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষিতে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাড়ির পেছনের লিচুবাগান কেটে প্রস্তুত করেন দুই বিঘা জমি।
যশোর, কুষ্টিয়া ও নওগাঁর সফলতার গল্প শুনে এবং মান্দার এক উদ্যোক্তার পরামর্শে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ জাতের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেন মুন্না। মাত্র আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০টি চারা রোপণের ৩ মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসে। কোনো কোনো থোকায় প্রায় এক কেজি ওজনের লালচে রঙের সুস্বাদু আঙুর ধরেছে।
আঙুরের পাশাপাশি একই জমিতে ব্ল্যাক ম্যাজিক, তুর্কি মালবেরি, ড্রাগন ও কমলার বাগানও গড়ে তুলেছেন মুন্না। প্রতিদিন দূর-দূরান্তের মানুষ তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন। অনেকে পরামর্শ ও আঙুরের চারা নিতে আসছেন। মিজানুর রহমান মুন্না জানান, ‘সাহস করে দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছিলাম। ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি আঙুর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাগান থেকেই চারা প্রতিটি ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করছি। চলতি মৌসুমে চারা ও ফল মিলিয়ে ৬-৭ লাখ টাকা আয়ের আশা করছি। আগামীতে আরও দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
মুন্নার বাবা আব্দুল মোতালেব বলেন, প্রথমে আপত্তি থাকলেও ভালো ফলন দেখে এখন তিনি ছেলেকে উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে দৃশ্যমান সহায়তা না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, মুন্নার এই সাফল্য বেকার যুবকদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। প্রয়োজনে তাকে যুব উন্নয়ন থেকে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম জানান, বাইকুনুর জাতের আঙুর বেশ সম্ভাবনাময় এবং কৃষি বিভাগ থেকে মুন্নাকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
