নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে টুনিরহাট থেকে ছাতনাই কলোনি বাজারে যাতায়াতের পথে নির্মিত কালভার্টটি কাজে আসছে না স্থানীয়দের। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, “কালভার্ট নির্মাণে এত টাকা ব্যয় হলেও আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না। সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নানা কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় কাজটি আটকে রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, “কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা হবে।”
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন হয়নি। ফলে ঠিকাদার বিলও করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয়রা তা কাটতে দিচ্ছেন না। ওই সড়কের মাটি সংযোগ সড়কে ব্যবহার করার কথা রয়েছে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করছি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।”
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। পরে ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উপজেলা মোড়, আদর্শপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন অ্যান্ড সন্স।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বিরোধের সমাধান করে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। এতে যোগাযোগের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কালভার্টটি দুই ইউনিয়নের মানুষের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এই বাংলা/এমএস
