এ লক্ষ্যে জেলায় ২ হাজার ৬৬৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ২৬৬ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলায় মোট ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪টি খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলায় ২ হাজার ৬৬৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ২৬৬ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া এ কার্যক্রমের সূচনা সম্পর্কে জানান।
এর আগে ঢাকার আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর ভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় প্রেস ব্রিফিংয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শারমিন সুলতানা পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গাজীপুরে প্রথম পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের ১৩, ২১, ৪১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং জেলার পাঁচটি উপজেলার নির্বাচিত এলাকাসহ মোট ১০টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর সদর উপজেলায় দুটি ওয়ার্ড এবং বাকি চারটি উপজেলায় একটি করে ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০২ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজারের মাধ্যমে ৯৪ হাজার ৪৩৮টি খানার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারিত। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপকারভোগী নির্বাচন ও আর্থসামাজিক অবস্থা নিরূপণে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এ পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে পাঁচটি আর্থসামাজিক স্তরে ভাগ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৮৬০ বা তার কম স্কোর পাওয়া নিম্ন আয়ের নারী পরিবারপ্রধানদের ভাতার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সরাসরি ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক শ্রেণির শর্ত প্রযোজ্য হবে। ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টাইলভুক্ত পরিবারপ্রধানদের কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর এ কর্মসূচিতে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের টাকাপের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিপকাজে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা করার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জরিপের সময় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাহরিয়ার নজির, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মতিয়ার রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল, গাজীপুর শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
