ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। সেই দোকানের আয়েই চলত সংসার, জ্বলত জীবিকার প্রদীপ। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ৭০ বছরের আব্দুর রশিদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন ছিল দোকানটি। কিন্তু এক রাতের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে তাঁর সাজানো স্বপ্ন, কেড়ে নিয়েছে জীবিকার একমাত্র আশ্রয়। এখন নিঃস্ব এই বৃদ্ধের চোখে-মুখে শুধু অনিশ্চয়তা- কীভাবে চলবে সংসার, কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি?
ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘির পাড় এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আব্দুর রশিদের চায়ের দোকানটি পুড়ে যায়। দোকানের মালামাল, আসবাবপত্রসহ সবকিছুই আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
জানা গেছে, রাতের কোনো একসময় দোকানের গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো দোকানে। আগুনের তীব্রতায় দোকানের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা জীবিকার শেষ সম্বলটি চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পাশের দোকানি মনির হোসেন বলেন, রাতে হঠাৎ আব্দুর রশিদের দোকানে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। পুরো দোকান পুড়ে যাওয়ার পর বৃদ্ধ আব্দুর রশিদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই চায়ের দোকানটিই ছিল অসহায় বৃদ্ধের সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। দোকানটি পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন একেবারে নিঃস্ব। তার এই ক্ষতি সত্যিই বেদনাদায়ক।
দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুখলেছুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দোকানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
