Published on
:
2 min read
ঘরের মাঠে ISL মরশুমের প্রথম ম্যাচে নামতে চলেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়িন এফসি। নর্থ ইস্টের কাছে হার ও দিল্লির কাছে ২-১ গোলে জেতার পর এ বার ঘরের মাঠে পরীক্ষা পানোসের ছেলেদের। এই ম্যাচে অ্যাডভান্টেজ সমর্থকরা। ম্যাচের আগে আক্রমণভাগে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর কড়া বার্তা দিলেন দলের হেড কোচ। প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে কোচের পাশাপাশি হাজির ছিলেন মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপাও।
‘২৬টি সুযোগ থেকে গোল শূন্য থাকা যায় না’
আগের দুই ম্যাচে বল পজেশন এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকে দল এগিয়ে থাকলেও ফিনিশ করতে পারেনি। তা নিয়ে অসন্তোষ গোপন করেননি কোচ। নর্থইস্ট ম্যাচে দলের ২৬টি গোলের চেষ্টার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে ISL-এ আমরাই সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করছি। কিন্তু ২৬টি শট বা সুযোগ তৈরি করে গোলসংখ্যা শূন্য থাকতে পারে না। বিশ্ব ফুটবলের সাধারণ গড় অনুযায়ী এই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্তত ৩ থেকে ৪টি গোল পাওয়া উচিত ছিল।’
চেন্নাইয়িন ম্যাচের রণকৌশল নিয়ে তিনি জানান, হোম হোক বা অ্যাওয়ে, মোহনবাগানের খেলার দর্শনে কোনও পরিবর্তন হবে না। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ শানানো এবং রক্ষণ সামলানোই দলের মূল লক্ষ্য। যুবভারতীতে সমর্থকদের উপস্থিতিতে ফুটবলারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা থাকবে বলেও আশাবাদী তিনি।
ম্যাকলারেন-আপুইয়া-মিগুয়েলদের চোট
দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ম্যাচে পানোসের অন্যতম বড় সমস্যা তিন প্লেয়ারের চোট। জেমি ম্যাকলারেন, আপুইয়া রালতে ও মিগুয়েল ফিগুয়েরা।
ম্যাকলারেন বর্তমানে চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, তবে তাঁকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁকে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে দলে রাখতে পারেন কোচ।
আপুইয়া: দিল্লি ম্যাচের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। চেন্নাইয়িন ম্যাচে তাঁর খেলার কোনও সম্ভবনা নেই। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মিগুয়েল: হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তির কারণে তাঁকে নিয়ে ম্যাচের দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চেন্নাইয়িন আমাকে তৈরি করেছে, তবে মোহনবাগানের জার্সির ওজন আলাদা: থাপা
প্রাক্তন ক্লাব চেন্নাইয়িন এফসি-র বিরুদ্ধে নামার আগে কিছুটা স্মৃতিকাতর শোনাল অনিরুদ্ধ থাপাকে। তিনি বলেন, ‘চেন্নাইয়িন আমার প্রথম পেশাদার ক্লাব। একজন মানুষ এবং খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে ওদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু মোহনবাগানের জার্সির সম্মান ও প্রত্যাশার চাপ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে সাধারণ খেলে টিকে থাকা যায় না, সেরা ফুটবলটাই খেলতে হয়।’
মিডফিল্ড থেকে আরও বেশি গোল পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে থাপা জানান, দলের কোচিং স্টাফের দেওয়া গেমপ্ল্যান মেনে খেলে মিডফিল্ডাররাও গোল করে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
ভারতীয় জুনিয়রদের সাফল্যে বার্তা
বাকুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৫ দল প্রথমে লাওস ও তার পর ক্যামেরুনকে হারানোর প্রসঙ্গে থাপা জানান, অনূর্ধ্ব-১৪ বা ১৫ পর্যায়ে ভারতীয় ফুটবলাররা দারুণ খেললেও ১৭ থেকে ২৩ বছর বয়সের মধ্যে তাদের ম্যাচ টাইমে ঘাটতি দেখা যায়। তাঁর মতে, ১৬-১৭ বছর বয়সেই তরুণদের নিয়মিত ক্লাবের সিনিয়র দলে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় দল ও প্রধান লিগগুলোতে নিয়মিত আধিপত্য দেখাতে পারে।
ঘরের মাঠে চেনা সমর্থকদের সামনে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে লিগ টেবলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করাই এখন সবুজ-মেরুন শিবিরের মূল লক্ষ্য।
