জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বিতর্কিত পোস্টটি সত্যিই হ্যাকাররা দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যে নেতা নাকি জীবনে কোনোদিন মিথ্যা বলে নাই, সেই নেতা কেনো এতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে? তাহলে কি কর্মজীবী নারীদের কটুক্তি করার বিষয়টি সত্য?’
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মোবাইল ফোন হেফাজতে নেওয়া হলে বড় ধরনের কোনো অপরাধের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে কি না। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জামায়াত আমিরের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ডিভাইস হস্তান্তর না করার পেছনে বড় ধরনের কোনো অপরাধ আড়াল করার বিষয় থাকতে পারে। তবে তাঁর এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণের কথা সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। পোস্টটিতে কর্মজীবী নারীদের পরিস্থিতিকে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে রাজপথেও বিক্ষোভ হয়। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন পোস্টটিকে কর্মজীবী নারীদের জন্য অবমাননাকর বলে প্রতিবাদ জানায়।
তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিতর্কিত পোস্টটি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে মামলা করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
পরে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরদিন তাঁকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কথা জানায় ডিবি। তবে একই দিন আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
এ ঘটনার কয়েক মাস পর জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
