এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অন্তত পাঁচটি মিসাইল ছুড়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এতে চার নিরাপত্তারক্ষী নিহতসহ আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদরদপ্তর প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত।
গত দুই মাস ধরেই ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের লড়াই চলছে। এরমধ্যে আজ দেশটির সরকারের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হামলার ঘটনা ঘটল।
আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) এ হামলার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদকে টার্গেট করেছে হুথিরা। আর এর মাধ্যমে দেশটিতে পূর্নাঙ্গ গৃহযুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
দেশটির সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হুথিরা এ হামলা চালিয়েছে।
এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এ লড়াই আরও বাড়তে যাচ্ছে। যা পরে পূর্নাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে বলে শঙ্কা সাধারণ ইয়েমেনিদের। এরসঙ্গে এতে সৌদি আরব ছাড়াও অন্যান্য আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো যুক্ত হতে পারে।
হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিতে অন্যান্য ইসলামিক দেশগুলোর কাছে লবিং করছে সৌদি। দেশটি বলছে, হুথিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের জন্য হুমকি।
আজকের হামলার মাধ্যমে হুথিরা দেখিয়েছে তারা ইয়েমেনের সরকারের মূল কেন্দ্রকে টার্গেট করতে চায়। সানা ইয়েমেনের রাজধানী হলেও এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
এই হামলার জবাবে হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে ইয়েমেনি বাহিনী। তবে আলজাজিরা জানিয়েছে, সমস্যা হলো হুথিদের কোনো সদরদপ্তর নেই যেখানে পাল্টা হামলা হবে।
এছাড়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নেতারা বিমান হামলা থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকার কৌশল অবলম্বন করছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মন্ত্রিসভা বলেছে, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে চালানো হামলা হুতিদের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সৃষ্টির কর্মকাণ্ডেরই অংশ। এর মধ্যে তাইজ ও লাহিজ এবং সৌদি আরবের বেসামরিক এলাকাগুলোতে হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।