আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধের পাশাপাশি যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পাশাপাশি পাঁচ দিনের টানা ছুটিতে ঘরমুখী মানুষ ও ভ্রমণপ্রত্যাশীদের যাতায়াত বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্ভাব্য যাত্রীচাপ বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। উৎসবের আনন্দ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা যাত্রী হয়রানির কারণে ম্লান না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ বাস সার্ভিস চালু, প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফেরি প্রস্তুত রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সেতুর টোল প্লাজাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন।
এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচলের উপযোগী রাখা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাপ বিবেচনায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যান্য রুটে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন এবং ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জনসমাগম ও যাতায়াত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি সড়ক, রেল ও নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বাস মালিক সমিতি ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
