যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অপচেষ্টা করেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া কিছু পাণ্ডা। তাদের হাতে ড. ইউনূসের হেনস্তা, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পতিত ফ্যাসিস্টদের অনুশোচনার অভাব এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতারই অংশ। ড. ইউনূসের প্রতি এই অসম্মানজনক আচরণ পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করেছে।
রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার কারণেই জেএফকে বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসের ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।
ড. ইউনূস শুধু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই নন, তিনি নোবেলজয়ী ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়নি শুধু, বরং এর মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকেও হেয় করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশ গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। সেই অপশাসনের সহযোগী দুষ্কৃতকারীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারাই ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। বিদেশের মাটিতে সংঘটিত এই অপ্রীতিকর ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের মনে এই ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তপরায়ণ মনোভাব ও হিংসাশ্রয়ী আচরণের কোনো কমতি হয়নি।
