রাজধানী
ফাইল ছবি
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে মো. আলম শেখ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক রিমন মিয়া ঘটনার তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় আলম শেখ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের কয়েকজন তাঁকে শিশু চোর সন্দেহ করেন। তাঁরা কেন তিনি সেখানে এসেছেন, তা জানতে চান।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আলম শেখের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং মারধরে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে আলম শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলম শেখ রাজধানীর রূপনগর এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আলম শেখ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ গ্রহণের জন্য তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে।
শিশু চুরির মতো গুরুতর সন্দেহ দেখা দিলেও কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া আইনসম্মত নয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়াই যথাযথ পথ। সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে মারধর করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে তা শুধু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্ঘাটনে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাতৃভূমির খবর
-20261022090113.jpg&w=1440&q=75)
