রাজশাহী, ২০ অক্টোবর – দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানিসংকট এবং খরার অভিশাপ থেকে জনপদকে রক্ষা করতে এক যুগান্তকারী ও সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—খুব শীঘ্রই পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং তা দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম রাজশাহী সফর। আর এই সফরেই মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে এক বিরাট নাড়া দিয়েছেন তিনি।
পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ: নেপথ্যের সমীকরণ ও ১৪ জেলার ভাগ্যবদল
দীর্ঘদিন ধরে উজানের পানিসংকট ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠ আজ প্রায় মরুভূমির পথে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা ওই অঞ্চলের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
কারা সুফল পাবে? সরকারপ্রধান নিজে জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে কেবল রাজশাহী নয়, এর আশপাশের অন্তত ১৪টি জেলার মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডারখ্যাত জেলাগুলোতে সেচ সংকট দূর করতে এই ব্যারেজগুলো বড় ধরনের শিল্ড হিসেবে কাজ করবে।
পানির ন্যায্য হিস্যা: কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক—যেকোনো উপায়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জনগণের মন জয়ে ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’র মাস্টারপ্ল্যান
জনসভায় কেবল মেগা প্রকল্পের ঘোষণাই নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কিছু রূপরেখাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে:
আখচাষীদের মাঝে প্রণোদনা: এদিন রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর হাতে মোট ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা তুলে দেওয়া হয়।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড: কৃষকদের সুরক্ষা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ এবং দেশের নারী ও মায়েদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
জনগণের সমর্থন: এই পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে আগামী পাঁচ বছর জনগণের অবিচল সমর্থন ও আস্থা কামনা করেছেন সরকারপ্রধান, যেখানে উপস্থিত জনতা হাত তুলে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানান।
ব্যস্ততম এক দিনে তিন নগরী সফর: কূটনীতি থেকে সম্প্রীতি
মঙ্গলবার দিনটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি এক দিনে তিন নগরী সফরের অংশ হিসেবে চষে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত।
রংপুর সফর: সকালে রংপুর পৌঁছে রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
রাজশাহী কর্মসূচি: এরপর সৈয়দপুর থেকে সামরিক বিমানে রাজশাহী পৌঁছে জনসভায় ভাষণ দেন, আখচাষীদের প্রণোদনা দেন এবং রাজশাহী ধর্মসভার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা: রাজশাহী সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ সেরে শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারেজ নির্মাণের এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘমেয়াদী এই মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পথে কতখানি সফল হয়।
এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারেজের ঐতিহাসিক ঘোষণা: ১৪ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের হাহাকার কি এবার ঘুচতে চলেছে? first appeared on DesheBideshe.