সুদান-মিশর সীমান্তে বিমান হামলায় নিহত ৭২ খনি শ্রমিক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সুদান ও মিসরের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানায়।
মিশরীয় যুদ্ধবিমানগুলো সুদানের ভূখণ্ডের ভেতরের উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াদি এলাকায় বেসামরিক খনি শ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এতে অন্তত ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সুদানের একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ওই পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাণভয়ে বেঁচে ফিরে আসা ব্যক্তিরা চরম বিশৃঙ্খলার কথা জানিয়েছেন।
সুদানের গৃহযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধ নথিভুক্তকারী সংস্থা 'ইমার্জেন্সি লয়ার্স' মিশরীয় সামরিক বাহিনীকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে।
তবে শনিবারের এই হামলার ঘটনাটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে মিশরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। সোনা উত্তোলনের জন্য পরিচিত জাবাল আল-উকাইদাত নামক এই পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় হামলা।
এর আগে গত জুন মাসে একই জায়গায় একটি স্বর্ণখনিতে মিশরীয় বাহিনীর কথিত হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। সে সময় মিশরীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা তাদের নিজ সীমানার ভেতরে অবৈধ সোনা উত্তোলনের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপকভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। উল্লেখ্য, সুদান ও মিশরের মধ্যকার সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অঞ্চল।
'হালায়েব ত্রিভুজ' নামে পরিচিত খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই ভূখণ্ডটিকে উভয় দেশই নিজেদের এলাকা হিসেবে দাবি করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রকাশিত কিছু ছবি (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি) থেকে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ডজন ডজন মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং অনেককে কাফনের কাপড়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছে। বেঁচে যাওয়া খনি শ্রমিকরা ওই অঞ্চলে হঠাৎ ফাইটার জেটের বিমান হামলার বিবরণ দেন। সূত্র: আল জাজিরা
তামান্না/
আরও পড়ুন
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ: বাড়ছে উত্তেজনা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়া দুটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু উৎক্ষেপণ করেছে, যা ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। বস্তু দুটি ইতোমধ্যে সমুদ্রে পড়েছে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) সোমবার জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। তবে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি জেসিএস।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশটি অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে।
সোমবারে পরিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ দুটি দেশই সম্প্রতি সমরাস্ত্র পরীক্ষা জোরদার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জেসিএস মুখপাত্র জাং দো-ইয়ং জানান, সিউলের সাম্প্রতিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবেই শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং নিজ দেশে তৈরি প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন। কোনো দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারকি করার ঘটনা বেশ বিরল। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের মূল লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আকস্মিক আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি হাইপারসনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল, যা মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তৈরি।
গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যবর্তী ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) ভূমিঝুঁকি মাইনের বিস্ফোরণে তিন সেনা সদস্য আহত হওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় সিউল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে যে, মাইন দুটি প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী পুঁতে রেখেছিল। যদিও পিয়ংইয়ং এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ তুলেছে।
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনার আগে সিউল জানিয়েছিল, তারা পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় সংলাপ শুরুর লক্ষ্যে প্রাথমিক সমন্বয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। ২০২৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের প্রথম ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন এবং ওয়াশিংটন ও সিউলের কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ২০১৯ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের আলোচনা হঠাৎ থমকে যাওয়ার পর থেকে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়।
পিয়ংইয়ং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে উত্তর কোরিয়া-বিরোধী শত্রুতাপূর্ণ নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ফিলিস্তিনের নির্বাচন পেছালেন আব্বাস
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ এএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইসরায়েলি বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে আগামী মাসে নির্ধারিত আইনসভার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ তারিখে একই সঙ্গে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের আদেশ দিয়ে নতুন ডিক্রি জারি করেছেন তিনি।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, আব্বাসের জারিকরা ডিক্রিতে ইসরায়েলি পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট বাধা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আব্বাসের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দুই দশক ধরে ফিলিস্তিনে নির্বাচন না হওয়ার বিষয়টি টেনে এনে আব্বাসের এই মন্তব্যকে জবাবদিহি থেকে রেহাই পাওয়ার আরও একটি হাস্যকর মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেন।’
বাস্তবে আগামী মাসের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আগেই নানা সংশয় ছিল। ২০০৫-২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই নির্বাচনের পর মাহমুদ আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী হামাস সহিংস কায়দায় গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আব্বাসের অনুসারীদের উৎখাত করে। এরপর ২০০৯ সালে আব্বাসের প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হলেও ডিক্রি জারির মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
ডিক্রিতে বলা হয়, দখলীকরা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সামরিক হামলা, বসতি স্থাপন বৃদ্ধি, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ফিলিস্তিনের রাজস্ব আটকে রাখার কারণে নভেম্বরের ভোট আয়োজন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে গাজার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট, ইসরায়েলি বাহিনীর অসম্পূর্ণ প্রত্যাহার, পুনর্নির্মাণে গতিহীনতা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন না হওয়াকে দায়ী করা হয়।
ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের ওপর ইসরায়েলি বিধিনিষেধ নির্বাচন প্রস্তুতিকে জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দল ও রাজনৈতিক শক্তির সাথে পরামর্শের পরেই নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স কর্তৃক ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে লিখিতভাবে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আব্বাস। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতায় ভোট পিছানোর পথেই হাঁটলেন ৮৯ বছর বয়সি এই ফিলিস্তিনি নেতা। সূত্র: রয়টার্স
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ইউক্রেনের দুই শহরে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৬
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইউক্রেনের দুই শহরে রুশ হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের একটি মুদি দোকানে চালানো হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবোভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং পুড়ে যাওয়া যানবাহনের চারপাশে উদ্ধারকর্মীরা জরুরি তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এদিকে, ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে সংঘটিত পৃথক আরেকটি রুশ হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। সূত্র: রয়টার্স
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
জিবুতির উপকূলে নৌকাডুবি: নিহত বেড়ে ১৩৯, নিখোঁজ ৮৪
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৮৪ জন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইওএম-এর প্রতিবেদনে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে জিবুতির পূর্বাঞ্চলীয় গুহের উপকূলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। কোস্টগার্ডের উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের সবাই ইতিওপিয়ার নাগরিক।
জিবুতিতে আইওএম-এর মিশন প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইস্যাক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, জাতিসংঘের উদ্ধারকারী দল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে গণনাকরা মৃতদেহের বাইরেও বেঁচে যাওয়া অভিবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে কিছু মরদেহ দাফন করেছেন। প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সেই সংখ্যাগুলোও মূল তথ্যে যুক্ত করা হবে।
জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া 'বাব আল-মান্দেব' সমুদ্রপথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়া সত্ত্বেও অভিবাসীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা, ইরান ও ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জীবিকার তাগিদে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আইওএম-এর তথ্যানুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে কেবল ইতিওপিয়া থেকেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ জিবুতিতে প্রবেশ করেছেন। গত বছর এই একই পথে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টাকালে অন্তত ৯০০ অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
তামান্না রুপা/
