বলিউডের সোনালী পর্দার দুই কিংবদন্তি বন্ধু অনিল কাপুর এবং সতীশ কৌশিক। ২০২৩ সালের ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার আচমকা না ফেরার দেশে চলে যান জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক সতীশ কৌশিক। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল পুরো বিনোদন দুনিয়া। তবে এই মৃত্যুর শূন্যতা সবচেয়ে বেশি গভীরভাবে অনুভব করেছেন তাঁর আজীবন বন্ধু অনিল কাপুর। সম্প্রতি 'ইন্ডিয়া টুগেদার' বা 'ইন্ডিয়াকে টপ ১%' নামক একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে সেই পুরনো বন্ধুত্বের দগদগে স্মৃতি ও আবেগ আবার নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
অনুষ্ঠানটির সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি আকর্ষণীয় প্রমোতে দেখা যায়, মঞ্চে গগন নামের এক প্রতিযোগী উপস্থিত হয়েছেন, যাঁর অবয়ব ও অবয়বের আদল হুবহু প্রয়াত সতীশ কৌশিকের মতো। তাঁকে দেখামাত্র আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অনিল কাপুর, তাঁর চোখ গলে নেমে আসে শ্রাবণের ধারা। রুদ্ধশ্বাসে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমার বন্ধুর সঙ্গে আমার যে আত্মিক বন্ধন, তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই অনুষ্ঠানটি যদি ৭০ মিনিটেরও হয়, তবে আমি এক নিঃশ্বাসে পুরো ৭০ মিনিট আমার বন্ধুকে নিয়ে কথা বলে কাটিয়ে দিতে পারি। সতীশের অসাধারণ প্রতিভা এবং অতুলনীয় রসবোধ সবসময় তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে।
স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে অনিল কাপুর আরও জানান যে, তিনি বড় ভালোবাস1 থেকে সতীশকে 'ড্যানি ডিভিটো' বলে ডাকতেন। হলিউডের জনপ্রিয় 'টুইনস' ছবিটি তাদের দুজনেই ভীষণ পছন্দ করতেন এবং রূপালী পর্দায় যমজ ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করার অবাস্তব অথচ মধুর কল্পনা করতেন প্রায়ই। কিন্তু আক্ষেপের সুরে অনিল জানান, সেই ইচ্ছা তাঁদের আর পূরণ হয়নি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি যোগ করেন, আমার জীবনে যদি কেউ সত্যিই ভাই হওয়ার যোগ্য হতো, তবে সে কেবলই সতীশ। সে আমাকে সবচেয়ে গভীরভাবে চিনত এবং ভালোবাসত।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে পরিবেশ কিছুটা হালকা করতে অনিল কাপুর ও প্রতিযোগী গগন একসঙ্গে ১৯৮৭ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র 'মিস্টার ইন্ডিয়া'-র সেই বিখ্যাত এবং অমর সংলাপটি আবৃত্তি করেন— "মেরা নাম হ্যায় ক্যালেন্ডার, ম্যায় চলা কিচেন কে অন্দর!" উল্লেখ্য, এই ছবিটিতেই কালজয়ী 'ক্যালেন্ডার' রাঁধুনির চরিত্রে অভিনয় করে অমর হয়ে আছেন সতীশ কৌশিক। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে শ্রীদেবীর সঙ্গে 'মিস্টার ইন্ডিয়া' থেকে শুরু করে 'রাম লখন', 'সাজন চলে সসুরাল' এবং 'দিওয়ানা মস্তানা'-র মতো একাধিক স্মরণীয় সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালনার মুন্সিয়ানা দেখিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন এই গুণী শিল্পী।
