নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট :
১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ১৪
ন্যাশনাল ব্যাংক আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঋণের গ্যারান্টার থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে সোনালী ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আমানতকারীদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের পাশে থাকবে। তবে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংক গতকাল থেকে আমানতকারীদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে গ্রাহকেরা টাকা তুলতে পারবেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদুল হক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় গভর্নর বৃহস্পতিবার থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে লুটপাট ও অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকটির নিজস্ব তহবিল দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি।
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকের সব শাখা ও এটিএম চালু করা হচ্ছে। সব শাখায় আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন ছাড়াও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন। তিনি আরও বলেন, আমানতকারীদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত খুব বেশি আবেদন জমা পড়েনি। অনেক গ্রাহকই বলছেন, যখন প্রয়োজন হবে, তখন টাকা তুলবেন।
মেলিতা মেহজাবীন বলেন, নিজেদের তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার প্রয়োজন হবে না। সে জন্যই আবেদন গ্রহণ করে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

