ওড়ার ঠিক আগমুহূর্তে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষ। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। এই বিমানবন্দরে পাখি তাড়াতে গিয়ে এর আগে বার্ড শুটারের গুলিতে প্রাণ গেছে একজনের। গেল মাসে আহত হয়েছেন আরেকজন।
ওঠা-নামার সময় উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে পাখি ঢুকে ক্ষতি, ফ্লাইট বিলম্ব এমনকি জরুরি অবতরণের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। এটি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। পাখির সঙ্গে উড়োজাহাজের এই সংঘর্ষ শাহ আমানত বিমানবন্দরেও নিয়মিত ঘটনা।
গেল ৫ বছরে দেশের ৮ বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে উড়োজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ২৭৭টি। যার ৯৫ শতাংশই পাখির সঙ্গে। চার বছরে এই ধরনের সংঘর্ষ বেড়েছে চার গুণ। যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় সাড়ে তিন গুণ বেশি।
অথচ এমন ঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল এভিয়েশনের কোনো তৎপরতাই নেই। স্টার নিউজে হাতে আসা তথ্য বলছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ড কন্ট্রোল সিস্টেম দেড় বছর ধরে অকেজো। বাকি দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি পদের বিপরীতে রয়েছেন একজন করে শুটার।
অভ্যন্তরীণ ৫টি বিমানবন্দরের কোথাও বার্ড শুটারই নেই। এর মধ্যে বরিশাল ও যশোরে সচল বন্দুক রয়েছে এবং সৈয়দপুর ও কক্সবাজারের বন্দুক অকেজো। আর শাহ মখদুমে কিছুই নেই।
দায় স্বীকার করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নুর হোসেন বলেন, অনেক আগের কিছু অস্ত্র ছিল। যেহেতু এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় রয়েছে, যা আমরা করতে পারি না বা করি না, সে কারণেই অস্ত্রগুলো কিছুটা বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেন, পাখি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের প্রচলিত বার্ড শুটিং সিস্টেমটি এখনো চালু আছে। তবে এটি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেটি একটি প্রশ্ন। আমরা সব সময় সিস্টেমটি সচল রাখতে পারছি না। এর পেছনে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গেল ২১ মে গঠন করা হয়েছে জাতীয় কমিটি। তবে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সভাই হয়নি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, আমরা একে একে বিষয়গুলো দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শুধু অ্যান্টি-বার্ড সিস্টেম নয়, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম কেনার জন্যও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এসব বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমার মনে হয়, একটির পর একটি সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব। এ জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পাখি তাড়িয়ে এই ঝুঁকি কমানো যাবে না, প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং ও আধুনিক প্রযুক্তি।
তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) নজরুল ইসলাম বলেন, পাখি হত্যা করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। এ জন্য নতুন ব্যবস্থাপনার দিকে যেতে হবে। মান্ধাতা আমলের ব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
