আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘বাবা সামলে নেবেন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
১১ অক্টোবর রোববার রাত ২টার দিকে কোচি বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাঁদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তাঁরা তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন।
রোববার রাতে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। এ সময় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়িটি তাদের স্কুটারে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন চালক সুহাইল। তবে তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাবে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন জানান, গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র রয়েছে।
চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু চালকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে তাকে ঘিরে ধরেন কয়েকজন। পরে হাসপাতাল থেকে বাইরে নেওয়ার সময় পেছন দিক থেকে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশস্ত সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা মিনি কুপার গাড়িটি সড়কের বাঁ পাশে চলা স্কুটারটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে স্কুটারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর বিভিন্ন অংশ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। গাড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের টহল ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার কে এস সুদর্শন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। চালকের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন ও গাড়ির ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
