আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে ফিফটি ও সেঞ্চুরি, উইকেটের পেছনে একের পর এক ক্যাচ। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করার পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসালের কীর্তি গড়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এর সঙ্গে উইকেটের পেছনে আটটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং; সব মিলিয়ে ৯ ডিসমিসাল। তাতেই গড়েন নতুন বিশ্বরেকর্ড।
এর আগে এই কীর্তি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৯ ও ১৮২ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে আটটি ডিসমিসাল করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ছয়টি ক্যাচ নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুটি ক্যাচ ধরেছিলেন লিন্ডসে। এবার তাকে ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।
এদিকে টেস্টের এক ম্যাচে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডেও ভাগ বসানোর সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
এই রেকর্ডের যৌথ মালিক ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের রিশাভ পন্ত। তিনজনই এক টেস্টে ১১টি করে ডিসমিসাল করেছেন। তাদের পাশে বসতে লিটনের প্রয়োজন আরও দুটি ডিসমিসাল। আর তিনটি ডিসমিসাল করতে পারলেই এককভাবে রেকর্ডটির মালিক হবেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে ১১টি ডিসমিসাল করেন ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার জ্যাক রাসেল। ১৮ বছর পর একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলে তার রেকর্ডে ভাগ বসান দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স। এরপর ২০১৮ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল করে এই তালিকায় নাম লেখান ভারতের রিশাভ পন্ত।
এক টেস্টে উইকেটকিপারদের ৯টি ডিসমিসালের ঘটনা লিটনের এই কীর্তিসহ টেস্ট ইতিহাসে ঘটেছে ৩১ বার। ১০টি ডিসমিসালের ঘটনা রয়েছে পাঁচটি। সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে তিন উইকেটকিপারের দখলে।
বাংলাদেশের হয়েও এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছেন লিটন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল খালেদ মাসুদের। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে সাতটি ডিসমিসাল করেছিলেন তিনি। লিটন আগেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন, এবার আটটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ে পৌঁছেছেন অনন্য উচ্চতায়।
