কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে আবাসন সংকট নিরসন, খাবারের মানোন্নয়ন, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হলের সংকট ও সমস্যা নিরসনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১১টি দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় হলের টিভি রুমে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হল প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন, সঞ্চালনা করেন হলের আবাসিক শিক্ষক মো. গোলাম মাহমুদ পাভেল। উক্ত মতবিনিময় সভায় কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জনি আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনসহ হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ এবং আবাসিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১১টি দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসন সংকট নিরসন, ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন, ওয়াশরুমে পর্যাপ্ত লাইট ও ট্যাপের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, ডেপুটি রেজিস্ট্রারের অফিস সময় নির্ধারণ, ওয়াশিং মেশিন স্থাপন, নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা, বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধান এবং মাদক প্রতিরোধ।
সভায় শিক্ষার্থীরা জানান, হলে আবাসন সংকটের কারণে একটি কক্ষে ১০ থেকে ১২ জনকে থাকতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। এ ছাড়া ডাইনিংয়ের খাবারের মান, ওয়াশরুমের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও হলের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা, ইন্টারনেট ও বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
সভায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. জনি আলম বলেন, ‘সবারই পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হওয়ার স্বপ্ন থাকে। তবে আমরা সবাইকে সেই সুযোগ দিতে পারি না। একজন শিক্ষার্থীর দুটি পরিচয় আছে। সে কোনো একটি বিভাগের শিক্ষার্থী কিংবা কোনো একটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের সব দাবিই যৌক্তিক। তবে আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, হলের ময়লার স্তূপ অপসারণ ও ওয়াশরুম পরিষ্কারের কাজ বাড়িয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করা হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হলের আলোকসজ্জার সমস্যা দূর করা, ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন, খাবারের দাম শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে রাখা এবং ওয়াই-ফাই সংযোগ উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘হলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।’
এ ছাড়া আবাসিক শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় সরাসরি হলের কার্যালয় বা হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
