অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় প্রভাব নয়, আইনের শাসনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। জনগণের ভোটে গঠিত নতুন সরকার জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ বা দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে জুয়া ও মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রমজানে ইফতার, সেহরি ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি সুবিধা গ্রহণে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা করমুক্ত গাড়ি বা প্লট সুবিধা নেবেন না। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর যানজট কমাতে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং
পরিবহন খাতে সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, “দল যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হবে এবং ভোট দেওয়া বা না দেওয়া নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সমান থাকবে।
