ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, ক্ষয়ক্ষতি ও সুনামির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় বার্তাসংস্থা ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ শনিবার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এ তথ্য জানানো হয়। জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র জিএফজেড জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, একই অঞ্চলে প্রায় ২৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভানুয়াতুর সোला এলাকার প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। দ্বিতীয়টির কেন্দ্রস্থল ছিল পোর্ট-অলরি এলাকার প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে। উভয় ভূমিকম্পের গভীরতা প্রাথমিকভাবে ১০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দুটি পৃথক ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে, নাকি একই ভূমিকম্পের মাত্রা ও অবস্থান নির্ধারণে প্রাথমিক হিসাবের পার্থক্যের কারণে দুটি তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা যোগাযোগ ও জনজীবনে বিঘ্নের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সুনামির কোনো সতর্কতা জারি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সরবরাহ করা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং স্বীকৃত সুনামি সতর্কীকরণ সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের চলাচলের কারণে এ অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কোনো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করে এর মাত্রা, গভীরতা, জনবসতি থেকে দূরত্ব এবং স্থানীয় অবকাঠামোর সক্ষমতার ওপর।
ভূমিকম্পটির চূড়ান্ত মাত্রা, সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং দুটি পর্যবেক্ষণ একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
