কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আনা হলে শরিয়তে তার বিধান কী? এ ধরনের অভিযোগ কি ব্যভিচারের অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে, আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নারীর জন্য কী শাস্তির বিধান রয়েছে— এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের।
উত্তরে মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেছেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া জঘন্য কবিরা গুনাহ। ইসলামে মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পুরুষ বা নারী— কেউই অন্য কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপবাদ দিতে পারবেন না।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘কযফ’ বলা হয়। ইসলামী আদালতে কযফ প্রমাণিত হলে এবং এ-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ হলে শরিয়তে নির্ধারিত শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নূরের ৪ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যারা সতী-সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, অথচ চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের ৮০ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করা এবং ফাসিক হিসেবে গণ্য করার কথাও বলা হয়েছে।
ফতোয়ায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আয়াতটিতে নারীর বিরুদ্ধে অপবাদের কথা উল্লেখ থাকলেও ফকিহদের মতে, কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়াও কযফের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই কোনো নারী নির্দোষ পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করলে, অভিযোগটি শরিয়তের পরিভাষায় ব্যভিচারের অপবাদ হিসেবে গণ্য হওয়ার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কযফের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা প্রতারণার মতো অপরাধের মিথ্যা অপবাদও গুরুতর গুনাহ ও জুলুম। তবে এসব অভিযোগকে কযফের অন্তর্ভুক্ত করে একইভাবে ৮০ বেত্রাঘাতের বিধান দেওয়া যাবে না। অভিযোগের ধরন, প্রমাণ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এসবের বিচারিক বিধান পৃথক হতে পারে।