সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ন
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডের চতুর্থ ও শেষ দিনে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে খুলনা বিভাগ। জয়ের জন্য শেষ দিনে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট। তবে খুলনার বোলারদের দাপটে শেষ পর্যন্ত ১০ রানে হেরে যায় চট্টগ্রাম। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী বিভাগ।
সিলেটে খুলনা ও চট্টগ্রামের ম্যাচে শেষ দিনের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়। চট্টগ্রামের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০১ রান, আর খুলনার দরকার ছিল পাঁচ উইকেট। দিনের শুরুতে শেখ মেহেদী হাসানের বলে শামীম হোসেন ১০ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম।
এরপর অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ও আবুল হাসনাত প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ইরফান করেন ৪৬ রান, আর হাসনাতের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। তবে তাদের চেষ্টা সত্ত্বেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি চট্টগ্রাম।
খুলনার হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শেখ মেহেদী হাসান ও রাকিব হাওলাদার। মেহেদী দ্বিতীয় ইনিংসে নেন চার উইকেট। ৭৩তম ওভারে হাসনাতকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামের ইনিংসের ইতি টানেন তিনি। আগের ইনিংসে বল না করা রাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন পাঁচ উইকেট। দুই ইনিংল মিলিয়ে মেহেদীর উইকেটসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে।
এর আগে খুলনার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান তরুণ ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১৪২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৩ রান করে খুলনা।
অবশ্য প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেনি খুলনা। দলটি অলআউট হয় ২০১ রানে। ইমরানুজ্জামান করেন সর্বোচ্চ ৬৪ রান। জবাবে চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ২৫০ রান। দুই দলের প্রথম ইনিংসের লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত বোলারদের নৈপুণ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় খুলনা।
এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশাল বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক রাজশাহী। ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন নাঈম আহমেদ। নিজের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ২৬৭ বলে অপরাজিত ২০২ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে রাজশাহী।
জবাবে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ২৪৯ রান নিয়ে। তবে শেষ দিনে মাত্র ২৪ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে যায় দলটি। আগের দিন ৯১ রান করা ওপেনার জাওয়াদ আবরার বড় ইনিংসের ভিত গড়লেও পরের ব্যাটাররা তা এগিয়ে নিতে পারেননি।
রাজশাহীর বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামের বোলিংয়ে ধসে পড়ে বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপ। পাঁচ উইকেট নেন শফিকুল। সানজামুল ইসলাম পান দুটি উইকেট। বরিশালের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে।
জয়ের জন্য রাজশাহীর সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ রান। নাঈম আহমেদ ৮ রান করে আউট হলেও দুই উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী। ফলে ৮ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
