কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। ধনদেবী খুব স্বল্পে প্রসন্না হন। পানিফল, আখ, ধানের ছড়ার মতো সামান্য জিনিসে তাঁর পুজো হয়। ঘরোয়া উপাচারে দেবী প্রীত হন।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২৯
কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর পুজো হয় বাড়িতে বাড়িতে। নাড়ু, মুড়কি থেকে পানিফল, পদ্ম, তালের ফোঁপর ইত্যাদি ছাড়া লক্ষ্মীপুজো অসম্পূর্ণ।
০২ / ১২
চিঁড়ে— কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম আবশ্যক উপাদান হল চিঁড়ে। দেবীকে চিঁড়ে নিবেদনের রীতি রয়েছে। চিঁড়ে বা চিপিটক হল কোজাগরীর মূল প্রসাদ।
০৩ / ১২
নাড়ু, মোয়া, মুড়কি— লক্ষ্মীপুজোর মূল রচনা বস্তু হল নাড়ু, মোয়া, মুড়কি। বাড়ির মহিলারা দিনভর উপোস করে দেবীর জন্য রচনা সামগ্রী রাঁধেন। চিনি দিয়ে পাকানো নারকেল নাড়ু, গুড়ের নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু, খইয়ের মোয়া, মুড়কি, তিলের তক্তিতে সেজে ওঠে দেবীর নৈবদ্যের থালা।
০৪ / ১২
পিটুলির আলপনা— খড়ি মাটি, রং বা হাল ফ্যাশনের স্টিকার নয়, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল পিটুলির আলপনা। পিটুলি গোলা অর্থাৎ আতপ চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা আঁকাই নিয়ম। ধানের ছড়া, শঙ্খ, পদ্ম, দেবীর পদচিহ্ন ইত্যাদিতে সেজে ওঠে মেঝে, নিকানো উঠোন।
০৫ / ১২
পানিফল— লক্ষ্মীদেবীর প্রিয় ফল পানিফল। জলাশয়ে পানিফলের জন্ম। কোজাগরী পূর্ণিমায় ধনদেবীকে পানিফল নিবেদন করতে হয়।
০৬ / ১২
তাল ফোঁপরা— ভাদ্রে তালের রস নিংড়ে নেওয়ার পর পড়ে থাকা আঁটি থেকে ফোঁপরার জন্ম হয়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে অঙ্কুরিত আঁটি ভাঙলে বা কাটলে দেখা যায় ভিতরে রয়েছে সাদা বস্তু। যা নাম তালের ফোঁপরা বা তাল ফোঁপর। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় তালের ফোঁপরা দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।
০৭ / ১২
আখ— লক্ষ্মীপুজোয় এক খণ্ড হলেও আখ দিতে হয়। দেবী মূর্তির দুই পাশে সপত্র আখ রাখার রেওয়াজ আছে কোথাও কোথাও। কোনও কোনও বাড়িতে আবার আখকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়।
০৮ / ১২
কাঁচা হলুদ— লক্ষ্মীপুজোর আর একটি প্রয়োজনীয় উপাদান কাঁচা হলুদ। লক্ষ্মী কৃষিকাজেরও দেবী। নতুন ফসল হিসাবে কাঁচা হলুদ নিবেদন করা হয় তাঁকে। দেবীর আর এক নাম শ্রী। শুভ এবং কল্যাণের প্রতীক হিসাবে দেবীকে কাঁচা হলুদ উৎসর্গ করা হয়।
০৯ / ১২
ধানের ছড়া— ধান আদতে লক্ষ্মীর প্রতিরূপ। দেবীর বেদী বা পাটে ধানের ছড়া দেওয়া হয়। কেউ কেউ শীষ-সহ ধান দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করেন।
১০ / ১২
টুনি ফুল— খাল-বিলের ধারে, জলজ জায়গায় বা নদীর চরার আশপাশে ঝোপঝাড়ে টুনি ফুলের জন্ম। টুনি বা নল টুনি লক্ষ্মীদেবীর প্রিয় ফুল। শরৎ পূর্ণিমায় টুনি ফুল ছাড়া দেবীর পুজো হয় না।
১১ / ১২
পদ্ম— জলপদ্ম লক্ষ্মীর প্রিয়তম ফুল। কোজাগরীর দিন শ্রীদেবী একটি পদ্ম নিবেদন করতেই হয়।
১২ / ১২
লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনে বিলাস, বাহার নেই। তালের ফোঁপরা, পিটুলির আলপনার মতো ঘরোয়া উপাচারে দেবীর পুজোর আয়োজন করেন মেয়ে-বউরা। আখ, ধান, পদ্ম, পানিফল, টুনি ফুলের মতো পল্লীবাংলার মাঠ, ঘাট, ক্ষেতের মরসুমি ফসলে দেবী তুষ্ট হন। কোজাগরী নিশিতে ভক্তদের কৃপা। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
পরবর্তী গ্যালারি
সামান্য গাফিলতিতেই রুষ্ট হন লক্ষ্মী! কোন রঙের আসনে বসাচ্ছেন দেবীকে? কাঁসর-ঘণ্টা ভুলেও বাজাবেন না
নিষ্ঠাভরে আরাধনা করার পাশাপাশি সচেতন হওয়াও জরুরি। সামান্য অসাবধানতায় নষ্ট হতে পারে ঘরের সুখ-সমৃদ্ধি। জানেন কেন রুষ্ট হন লক্ষ্মী?
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৩১
০১ / ১০
কথিত, দেবী লক্ষ্মী কিন্তু চঞ্চলা। তিনি রুষ্ট হলেই চলে যান গৃহস্থের বাড়ি ছেড়ে। নিষ্ঠাভরে আরাধনা করার পাশাপাশি সচেতন হওয়াও জরুরি। সামান্য অসাবধানতায় নষ্ট হতে পারে ঘরের সুখ-সমৃদ্ধি।
০২ / ১০
রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। পুজোর প্রস্তুতি এই মুহূর্তে জোরকদমে নিশ্চয়ই? ছোট ছোট এই বিষয়গুলি এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?
০৩ / ১০
পুজো করার সময়ে দেবীকে কোনওদিন তুলসী পাতা দেবেন না। এতে রুষ্ট হন লক্ষ্মী।
০৪ / ১০
আসলে, পুরাণ মতে, তুলসীর সঙ্গে বিয়ে হয় শালগ্রাম শিলার। এই শালগ্রাম হল নারায়ণের রূপ। অন্য দিকে দেবী লক্ষ্মী নারায়ণের স্ত্রী। কাজেই সেই দিক থেকে তুলসী হলেন তাঁর সতীন।
০৫ / ১০
দেবীর আসনের রং সাদা বা কালো রাখছেন না তো? এতেও অসন্তুষ্ট হতে পারেন দেবী। একই ভাবে দেবীর পুজোয় কালো পোশাক পরা থেকেও বিরত থাকুন।
০৬ / ১০
দেবীর চরণে সর্বদা থাকবে রঙিন ফুল। সাদা ফুল ভুলেও নিবেদন করবেন না লক্ষ্মীকে।
০৭ / ১০
পরিবর্তে অর্পণ করুন পদ্ম অথবা গাঁদা। লক্ষ্মীর অন্যতম পছন্দের ফুল হল পদ্ম।
০৮ / ১০
লোহার বাসনে ভোগ নিবেদন করা থেকে বিরত থাকুন।
০৯ / ১০
দেবী চঞ্চলা হলেও শব্দ পছন্দ করেন না তিনি। তাই তাঁর পুজোয় ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা বাজানো উচিত নয় বলেই করা হয়। এতে নাকি তিনি ত্যাগ করেন গৃহস্থবাড়ি।
১০ / ১০
যেখানে পুজো হচ্ছে, সেই জায়গা যেন থাকে সর্বদা পরিষ্কার। ভাল করে পরিষ্কার করে আলপনা এঁকে পুজো করুন দেবীর। প্রসাদে যেন থাকে মোয়া, মুড়কি, নাড়ু এবং দেবীর পছন্দের ‘লক্ষ্মী বিলাস’ মিষ্টি। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)
